ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে কর্নাটক সরকার। রাজ্যের কারা দফতর ইতিমধ্যেই সেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

শেষ আপডেট: 9 November 2025 22:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রহারা সেন্ট্রাল জেলে (Bengaluru Parappana Agrahara Jail) বন্দিদের VIP সুবিধা ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে কর্নাটক সরকার (Karnataka Government orders probe)। রাজ্যের কারা দফতর ইতিমধ্যেই সেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
শনিবার ফাঁস হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায় কুখ্যাত দাগি বন্দিরা, যাদের মধ্যে রয়েছে এক আইএসআইএস নিয়োগকারী ও এক সাজাপ্রাপ্ত ধর্ষক-খুনি। দেখা যায়, জেলের ভিতরে তারা ফোন ব্যবহার করছে এবং বিশেষ সুবিধাও পাচ্ছে।
কর্নাটকের প্রিজনস অ্যান্ড কারেকশনাল সার্ভিসেসের ডিরেক্টর জেনারেল বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক পি ভি আনন্দ রেড্ডি জানিয়েছেন, “তদন্ত চলছে যে, এই বন্দিরা কীভাবে মোবাইল পেল, কে ফোনগুলো ভিতরে আনল, কারা তা হাতে তুলে দিল, কখন ফুটেজ রেকর্ড করা হয়েছে এবং কীভাবে তা মিডিয়ায় ছড়াল। সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ভিডিওগুলিতে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে উমেশ রেড্ডি, বিখ্যাত এক দোষী সাব্যস্ত সিরিয়াল ধর্ষক। তাকে দেখা গেছে মোবাইল ব্যবহার করতে। অন্য এক ভিডিওতে ধরা পড়েছে এক আইএসআইএস নিয়োগকারী সন্দেহভাজন। এই ঘটনা গোয়েন্দাদের চিন্তায় ফেলেছে। তাহলে জেল থেকেই সে কি বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল? মোটিভ কী হতে পারে - তাও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেলুগু অভিনেতা তরুণ, যিনি এক সোনাচোরাচালান মামলায় অভিযুক্ত, তাকেও আলাদা ফুটেজে দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, জেলের ভিতরে কেউ না কেউ সাহায্য করেছেন, যার ফলে এই অবৈধ সুবিধাগুলি সম্ভব হয়েছে।
ভিডিও ফাঁসের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়, প্রশ্ন ওঠে কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে। কর্তৃপক্ষ ভিডিওর সত্যতা যাচাই শুরু করেছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করার কাজ চলছে।
জেলের প্রধান তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দোষী বন্দি ও সংশ্লিষ্ট অফিসার বা কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।
“এটা চলতে পারে না” - কঠোর হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। যদি এমন চলতে থাকে, তাহলে জেল আর জেল থাকবে না। আমি শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক ডাকছি। রিপোর্ট চেয়েছি। যদি রিপোর্ট সন্তোষজনক না হয়, আরও এক কমিটি গঠন করা হবে। পুলিশ যদি স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিতে পারে, আমরা আলাদা তদন্ত চালাব। কে সন্ত্রাসবাদী, কে অন্য বন্দি - তা নির্বিশেষে কারও হাতে ফোন থাকা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, ভিডিও পুরোনো হলেও এমন ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অতীতে যারা দায়ী প্রমাণিত হয়েছেন, তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরমেশ্বরা আরও জানান, “আমরা বি দয়ানন্দকে এই তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি ছুটিতে ছিলেন, তবে আমি ফোনে কথা বলে তাঁকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
গোটা ঘটনায় বিব্রত রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, “প্রিজন ডিরেক্টর জেনারেল ছুটিতে ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাল উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকছেন। যারাই দোষী প্রমাণিত হবে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা হবে।”
বিতর্কের ইতিহাসে জর্জরিত এই জেল
এই একই জেল আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে। কখনও দেখা গিয়েছে বন্দিরা কেক কেটে জন্মদিন পালন করছেন, কখনও আবার রাউডি শীটারের গলায় আপেলের মালা। কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু কিছুদিন পরই নতুন লঙ্ঘন ধরা পড়ছে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক অভিনেতা হাতে সিগারেট ও কফির কাপ নিয়ে জেলের ভিতরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। এবার প্রশাসন মরিয়া হয়ে খুঁজছে কারা ভিতর থেকে সহযোগিতা করছে, এবং কীভাবে এমন অবাধ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে একটি উচ্চ নিরাপত্তার জেলে।