হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কঙ্গনার পায়ের কাছে এলাকার দুর্দশা নিয়ে আর্তি জানাচ্ছেন এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক। এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই সুশীল নেটসমাজে সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে।

সাংসদ কঙ্গনার পায়ের কাছে এলাকার দুর্দশা নিয়ে আর্তি জানাচ্ছেন এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেত্রী থেকে বিজেপি নেত্রী হওয়া কঙ্গনা রনৌত ফের নেটপাড়ার কড়া নিন্দার মুখে। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কঙ্গনার পায়ের কাছে এলাকার দুর্দশা নিয়ে আর্তি জানাচ্ছেন এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক। এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই সুশীল নেটসমাজে সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। সম্প্রতি, অতিবৃষ্টি, মেঘভাঙা বর্ষণ, হড়পা বানে তছনছ হয়ে গিয়েছিল অভিনেত্রীর লোকসভা কেন্দ্র মান্ডি। বন্যাক্লিষ্ট মানুষের পাশে সময়মতো না দাঁড়ানোর জন্য সমালোচিত হতে হয় বিজেপি এমপিকে। এবার জনঅভিযোগ মীমাংসায় স্থানীয় এমপির দ্বারস্থ হয়ে তরুণ প্রজন্মের নেত্রীর পায়ের কাছে বসে এক বৃদ্ধের আকুতি জানানো নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শুধু তাই নয়, কঙ্গনা রনৌত বৃদ্ধের আর্জি কানে না তুলে তাঁর কিছু করার নেই বলে খারিজ করে দেওয়ায় বেদম চটেছে নেটপাড়া। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই কঙ্গনা তাঁর রাজনীতিতে আসা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। রেডিট সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন ‘দ্য কুইন’।
মান্ডিতে কঙ্গনা লোকসভা এলাকার মানুষের অভিযোগ, আবেদন শুনছিলেন। সেই সময় এক অত্যন্ত বৃদ্ধকে তাঁর পায়ের কাছে বসে নালিশ শোনাতে দেখা গিয়েছে ভিডিওতে। তিনি তাঁর কয়েকটি আর্জি নিয়ে এসেছিলেন এলাকার সাংসদের কাছে। তাঁর দরবার শুনে কঙ্গনাকে বলতে শোনা যায়, ইয়ে মুখ্যমন্ত্রী কে জো কাম হ্যায় ওহ তো আপ উনকো হি বাতা সকতে হ্যায়...মুঝে মুখ্যমন্ত্রী কে কাম বাতাকে...।
তখন বৃদ্ধ তাঁকে অনুরোধ করেন, বিষয়টি তিনি তো সংসদেও তুলতে পারেন। এরপর কঙ্গনা বৃদ্ধকে আশ্বস্ত করতে বলেন, তিনি তাঁর সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। ভিডিওতে এক জায়গায় দেখা যায়, এক ব্যক্তি মাঝখানে ওই বৃদ্ধকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও কঙ্গনা তাতে বাধা দিয়ে বৃদ্ধকে বলার সুযোগ দেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই কঙ্গনার আচরণকে অসংবেদশীল বলে মনে করেন। কেউ কেউ বলেছেন, বয়স্ক মানুষ হিসেবে তাঁকে পায়ের কাছে বসিয়ে রাখা উচিত কাজ হয়নি। তিনি তাঁকে পাশে বসার অনুরোধ করতে পারতেন। কেউ বলেছেন, বৃদ্ধ মানুষটিকে মাটিতে বসিয়ে রাখা কি উচিত হয়েছে? কেউ কঙ্গনাকে ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, ওনার রাজনীতিতে আসাই ঠিক হয়নি। উনি যদি এলাকার সমস্যার হাল না করতে পারেন তাহলে কীসের জনপ্রতিনিধি তিনি? অন্য একজন লিখেছেন, বলিউডের অভিনেত্রীরা রাজনীতিতে এলে এমনটাই হবে। ওনার দাদুর বয়সি একজনকে বসার একটা চেয়ার দিতে পারলেন না! যেমন হয়েছে- হেমা মালিনী, স্মৃতি ইরানির।