কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক গঠিত কমিটির কাছে এই ছবির পর্যালোচনার বিষয়ে সরকারের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

২০২২ সালের জুন মাসে রাজস্থানের উদয়পুর শহরের এক দর্জি কানহাইয়া লাল খুন হন।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তির আগেই বিতর্ক ঘনিয়ে তোলা ‘উদয়পুর ফাইলস’ ছবির প্রদর্শন সংক্রান্ত মামলার শুনানি বুধবার পিছিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক গঠিত কমিটির কাছে এই ছবির পর্যালোচনার বিষয়ে সরকারের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। বুধবারই দুপুর আড়াটের সময় কমিটি আলোচনায় বসবে। আদালত একইসঙ্গে মহম্মদ জাভেদ নামে আবেদনকারীর এই ছবির মুক্তি নিয়ে আপত্তির কারণও শুনতে বলেছে।
শীর্ষ আদালত ওই কমিটিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও আদালত ছবির নির্মাতা ও কানহাইয়া লাল নামে খুন হওয়া ব্যক্তির ছেলেকে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেয়। যদি কোনওভাবে তাঁদের প্রাণের হুমকি থাকে তাহলে তাঁরা পুলিশ জানাতে পারবেন এবং পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য থাকবে বলে আদালত এদিন জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুন মাসে রাজস্থানের উদয়পুর শহরের এক দর্জি কানহাইয়া লাল খুন হন। তাঁর হত্যাকাণ্ডের উপর নির্ভর করে ‘উদয়পুর ফাইলস’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। ওই খুনে মূল অভিযুক্ত ছিল মহম্মদ রিয়াজ ও মহম্মদ ঘাউস। মহম্মদ প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার একটি বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন কানহাইয়া লাল। সেই কারণে আক্রোশবশত তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
‘উদয়পুর ফাইলস’ সিনেমাটি গত ১১ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তার আগের দিন বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট এই ছবির মুক্তির উপরে স্থগিতাদেশ দেয়। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র ছাড়পত্র বোর্ডের (CBFC) কাঁচি ছাড়াই ছবির মুক্তি নিয়ে আপত্তি জানায় জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ। তারা ছবিটি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল। সেই মতো কেন্দ্রীয় কমিটি এটি পুনর্বিবেচনা করবে। যতক্ষণ না তাদের মতামত সামনে আসে, ততক্ষণ ছবির মুক্তিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত।
কানহাইয়া লাল খুনের তদন্তভার নিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করাও হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা করে এনআইএ-র জয়পুরের বিশেষ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এই মামলার অষ্টম অভিযুক্ত হলেন মহম্মদ জাভেদ। যিনি ছবির মুক্তি নিয়েও আর্জি জানান আদালতে। তাঁর আর্জি ছিল, যতক্ষণ না মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, ততদিন এই ছবির মুক্তিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক।