২৫ বছরের কমল ধ্যানি একটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কে কাজ করতেন। শুক্রবার রাত ১২টা ৫০ নাগাদ তিনি তাঁর যমজ ভাই করণকে ফোন করেন। জানান ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন।

দিল্লিতে যুবকের মৃত্যু (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 8 February 2026 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির জনকপুরী এলাকায় ১৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় বাইক আরোহী কমল ধ্যানির (Kamal Dhyani death)। গত শুক্রবার বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ৮ ঘণ্টা সেখানেই পড়েছিল যুবকের দেহ। কেউই উদ্ধারকাজের জন্য এগিয়ে আসেননি। শেষে এক প্রত্যক্ষদর্শী ঠিকাদারকে জানান কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি (Janakpuri pit tragedy)। রাতভর খবর দেওয়া হয়নি পুলিশকে। ভোরে পরিবার যখন তাঁকে খুঁজতে আসে, তখন কামালকে মৃত অবস্থায় সেই গর্ত থেকে উদ্ধার হয় (Delhi construction accident)।
২৫ বছরের কমল ধ্যানি একটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কে কাজ করতেন। শুক্রবার রাত ১২টা ৫০ নাগাদ তিনি তাঁর যমজ ভাই করণকে ফোন করেন। জানান ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন। মাকে রুটি বানানোর কথাও বলেন তিনি। “ও বলছিল বাড়ির পথেই আছে। সবাই মিলে মধ্যরাতে কেক কাটার অপেক্ষায় ছিলাম। তার বদলে সারারাত ওকে খুঁজে বেড়ালাম,” বলতে বলতে গলা কাঁপতে থাকে করণের (Delhi accident)।
কিন্তু আধ ঘণ্টা কেটে গেলেও কমল বাড়ি ফেরেননি। ফোনে আর যোগাযোগও করা যাচ্ছিল না। উদ্বেগ দ্রুত আতঙ্কে পরিণত হয়। পরিবারের লোকজন রাতেই বেরিয়ে পড়েন। রোহিণীতে কমলের অফিসেও যাওয়া হয়। ম্যানেজার জানান, কমল অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে গেছেন।
ম্যানেজারও তাঁদের সঙ্গে খোঁজে যোগ দেন। একসঙ্গে তাঁরা ঘুরে বেড়ান এক থানার পর আরেক থানায়, ফাঁকা রাস্তায় রাস্তায়- কোথাও যদি মোটরবাইকটা চোখে পড়ে, কোথাও যদি ফোনটা বেজে ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। কোনও উত্তর মেলে না। ভোরের দিকে পুলিশের ফোন আসে কমল আর নেই (Kamal Dhyani death)।
জনকপুরিতে দিল্লি জল বোর্ডের (DJB) নর্দমা পাইপলাইন সংস্কার প্রকল্পের জন্য খোঁড়া প্রায় ১৫ ফুট গভীর একটি গর্তের ভিতর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মাথায় তখনও হেলমেট পরা ছিল। কাদায় মাখা অবস্থায় পাশে পড়ে ছিল তাঁর মোটরবাইক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়ি ফেরার পথে বাইক চালাতে চালাতেই তিনি সেই খোলা গর্তে পড়ে যান।
তাঁর পরিবারের অভিযোগ, 'রাতেও গর্তের কাছে থাকা শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জানিয়েছিলেন, কেউ পড়ে যায়নি।' পুলিশ এই দিকটিও তদন্তের আওতায় রেখেছে।
যদিও পরিবারের আরও অভিযোগ, 'এই ঘটনায় তারাও পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য পায়নি। কামালের যমজ ভাই করণ ধ্যানি জানিয়েছেন, তারা রাতে বিভিন্ন থানায় গিয়েও কোনও সমাধান পাননি। ২৪ ঘণ্টার আগে মিসিং ডায়রি নিতে অস্বীকার করে। পুলিশ শেষে মোবাইল লোকেশন এবং বাইকের রেজিস্ট্রেশন দেখে জনকপুরি থানায় এসে ঘটনা চিহ্নিত করে।'
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় গর্তটি চার মাস ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আশেপাশে পড়ে থাকে নির্মাণ সামগ্রী। ফলে পথচারী, স্কুলপড়ুয়া-সহ সবাই ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় যাতায়াত করতেন। গর্তটি ইতিমধ্যেই বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং সতর্কতা চিহ্ন বসানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার আগে পর্যন্ত ছিল না স্থানীয়রা বারবার অভিযোগ করার পরও।