পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে সাহিবাবাদের রাজেন্দ্র নগর কলোনিতে এক মহিলার আত্মহত্যার মামলায় নাম জড়িয়েছিল চেতন কুমারের। মহিলা ছিলেন তাঁর ‘লাইভ-ইন পার্টনার’।

গাজিয়াবাদের তিন বোনের রহস্যমৃত্যু
শেষ আপডেট: 8 February 2026 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদের ভারত সিটি (Bharat City) টাউনশিপে তিন বোনের আত্মঘাতী ঝাঁপের ঘটনায় দুদিন আগে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। প্রথমে উঠে এসেছিল কোরিয়ান গেমের তত্ত্ব, তারপর ধীরে ধীরে খোলসা হয় আসল বিষয় এবং উঠে আসে মানসিক অবসাদের কথা। আর তার সঙ্গেই তিন কিশোরীর বাবা চেতন কুমার (Chetan Kumar) জড়িয়ে পড়লেন আরও এক পুরনো আত্মহত্যা মামলায়। বিধ্বস্ত পরিবার, বিপর্যস্ত অতীত আর জটিল পারিবারিক কাঠামো—সব মিলিয়ে মৃত্যু-তদন্তে বাড়ছে ধোঁয়াশা।
২০১৫-র সেই মৃত্যু, ফের খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে সাহিবাবাদের (Sahibabad) রাজেন্দ্র নগর কলোনিতে (Rajendra Nagar Colony) এক মহিলার আত্মহত্যার মামলায় নাম জড়িয়েছিল চেতন কুমারের। মহিলা ছিলেন তাঁর ‘লাইভ-ইন পার্টনার’ (Live-in Partner)। দু’টি বিয়ে থাকার পরও ওই সম্পর্ক ছিল বলে জানা গিয়েছিল তখন। ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় মহিলার। সে সময় মামলাটি ‘সুইসাইড’ হিসেবে বন্ধ হলেও, গাজিয়াবাদ ট্রিপল সুইসাইড তদন্তে এখন ফের সেই ঘটনা তুলছে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ নিমিশ পাতিল (DCP Nimish Patil) জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক অবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।
নবম তলা থেকে একে একে ঝাঁপ, থামাতে পারেনি কেউ
গত বুধবার রাত সওয়া ২টো নাগাদ ব্যালকনি থেকে একে একে ঝাঁপ দেয় নিশিকা (16), প্রাচী (14) এবং পাখি (12)। ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল তারা। কিছু পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আবাসনের বহু বাসিন্দার। তারা নীচে নেমে তিন বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
জটিল ‘স্ট্রাকচার’ পারিবারিক স্ট্রাকচার
তদন্তে উঠে এসেছে, চেতন কুমারের তিন স্ত্রী—সুজাতা (Sujata), হিনা (Heena) ও টিনা (Tina)—তিন জনই পরস্পরের বোন। নিশিকার মা সুজাতা, আর প্রাচী ও পাখির মা হিনা। কনিষ্ঠ কন্যা দেবু (৪)-র মা টিনা। তিন স্ত্রী, চার সন্তান—সবাই এক সঙ্গে থাকতেন। চেতনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ—স্টকব্রোকার (Stockbroker) হিসেবে ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ায় তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকা ঋণ হয়েছিল। বিদ্যুতের বিল মেটাতে নাবালিকাদের মোবাইল বিক্রি করে দিয়েছিলেন। দু’বছর ধরে আর্থিক সমস্যার জন্য স্কুলেও যাচ্ছিল না মেয়েরা।
কোরিয়ান (Korean) ‘অবসেশন’, সন্দেহজনক গেম
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, তিন বোনের মধ্যে প্রবল কোরিয়ান পপ-সংস্কৃতি (Korean Pop Culture) নিয়ে অন্ধ অনুরাগ ছিল। আট পাতার একটি পকেট ডায়রিতে লিখেছিল, “উই লাভ কোরিয়ান”। অনলাইন গেমের (Online Game) ‘টাস্ক’ নাকি তাদের মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে—এমন দাবি বাবার। নিজেদের কোরিয়ান নামও রেখেছিল তিন জন।
২০১৫-র মৃত্যু থেকে বর্তমান ট্রিপল সুইসাইড—সব খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত এটি ‘সুইসাইড কেস’ (Suicide Case) হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বাবার দাবি, গেমিং অ্যাডিকশন (Gaming Addiction) থেকেই ভয়ংকর পরিণতি। তবে পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক চাপ, অতীতের রহস্যজনক মৃত্যু—প্রতিটি দিকই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।