ইমপিচমেন্ট হলে, বিচারপতি যশবন্ত বর্মা হবেন স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম বিচারপতি যিনি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারিত হবেন।

শেষ আপডেট: 21 July 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অপসারণের দাবিতে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জন্য ১০০-র বেশি সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। লোকসভায় এই প্রস্তাব পেশ করার জন্য যে প্রয়োজনীয় সমর্থনের সীমা ছিল, তা ইতিমধ্যেই পার হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
সব দলের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন সংসদীয় কার্যমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি স্পষ্ট করেছেন, চলতি অধিবেশনেই প্রস্তাবটি আনতে চায় সরকার। “বিচারব্যবস্থার মধ্যে দুর্নীতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক,” মন্তব্য রিজিজুর। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে সরকারকে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিও সমর্থন করছে।
কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ জানিয়েছেন, “ইন্ডিয়া জোটভুক্ত দলগুলিও এই প্রস্তাবে সই করেছে এবং স্পিকারের কাছে চিঠি দিচ্ছে।”
ইমপিচমেন্ট হলে, বিচারপতি যশবন্ত বর্মা হবেন স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম বিচারপতি যিনি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারিত হবেন।
এর আগে, ১৯৯৩ সালে বিচারপতি ভি. রামাস্বামী-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু লোকসভায় ভোটাভুটিতে বেশ কিছু সদস্য অনুপস্থিত থাকায় প্রস্তাবটি পাশ হয়নি।
তারপর ২০১১ সালে বিচারপতি সৌমিত্র সেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ হয় রাজ্যসভায়। তবে লোকসভায় ভোট হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র সুপ্রিম কোর্ট থেকে সুপারিশ করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি এস এন শুক্লার বিরুদ্ধে, অভিযোগ বিচারিক অনিয়ম। তাঁর বিচারসংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও, সরকার ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করেনি। শুক্লা অবশেষে ২০২০ সালের ১৭ জুলাই অবসর নেন।
বিচারপতি বর্মাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয় চলতি বছরের মার্চে। দিল্লির তাঁর বাসভবনের আউটহাউসে আগুন লাগার পর, উদ্ধারকারীরা জ্বলন্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেন। এরপর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নিযুক্ত তিন সদস্যের বিচারপতি কমিটি তদন্ত করে বর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করে।
বিচারপতি খান্না এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই বিষয়ে সুপারিশ পাঠান। কারণ, বিচারপতি বর্মা পদত্যাগ করতে রাজি হননি।
তাঁকে এরপর এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফিরিয়ে পাঠানো হয় এবং বিচারসংক্রান্ত কোনও কাজ তাঁকে দেওয়া হয়নি। যদিও বিচারপতি বর্মা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।