বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনা তখন সামনে আসে যখন বিচারপতির দিল্লির সরকারি বাসভবনে আগুন লেগেছিল। দমকলকর্মীরাই বাড়ির ভেতর একাধিক ব্যাগে রাখা প্রায় ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের নগদ অর্থ উদ্ধার করেন।

বিচারপতি যশবন্ত বর্মা
শেষ আপডেট: 19 June 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ি থেকে হিসাব বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনার জেরে বিচারপতি যশবন্ত বর্মাকে (Justice Yashwant Varma) ইমপিচ করার পথে এগোচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) যে তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি (Investigation Committee) গঠন করেছিল, তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বিচারপতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিচারপতির বাড়িতে যে বিপুল টাকা ছিল তা দেখেছেন একাধিকজন! অথচ তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না, এটা অসম্ভব।
বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনা তখন সামনে আসে যখন বিচারপতির দিল্লির সরকারি বাসভবনে আগুন লেগেছিল। দমকলকর্মীরাই বাড়ির ভেতর একাধিক ব্যাগে রাখা প্রায় ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। এই কমিটির আগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিচারপতির বাড়িতে প্রায় দেড় ফুট উঁচু করে সাজিয়ে রাখা টাকার থোক উদ্ধার হয়েছে। সেগুলির অবশ্য বেশিরভাগই পোড়া। আর এই টাকার উৎস কী, সে ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বিচারপতি বর্মা।
এখন এই তদন্ত কমিটিই জানাচ্ছে, ৫৫ জন সাক্ষীর বয়ান ও ভিডিও-ছবিতে এই টাকার পাহাড়ের প্রমাণ মিলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ছিলেন দমকলকর্মী, পুলিশ এবং বিচারপতির পরিবারের সদস্যরাও। বিচারপতির মেয়ে দিয়াও সাক্ষ্য দিয়েছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী এও বলেন, "এই পরিমাণ টাকা আমি জীবনে প্রথমবার দেখেছি, হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।" সেই প্রেক্ষিতে বিপুল নগদের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও বিচারপতির তরফে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া এবং বিষয়টি লুকিয়ে যাওয়াকেই ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ বলে চিহ্নিত করেছে কমিটি।
তাঁদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিচারপতি দাবি করেছেন, তিনি কিছু জানতেন না। কিন্তু সেই দাবি একেবারেই অবিশ্বাস্য। যদি সত্যিই কোনও ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে, তবে তিনি কেন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেন না? কেন প্রধান বিচারপতির দফতর বা সুপ্রিম কোর্টকে কিছু জানালেন না? প্রশ্ন তুলছে কমিটি।
এই ঘটনায় বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিব রাজিন্দর সিং ও কন্যা দিয়া বর্মার ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন বলেই আশঙ্কা করছে কমিটি। সব মিলিয়ে, তদন্ত কমিটি বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অপসারণের সুপারিশ করেছে, যা নিয়ে এখন শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ।