শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, দুর্নীতি রুখতে কেন্দ্র শর্ত আরোপ করতে পারে, তদারকি করতে পারে, কিন্তু কোনও প্রকল্প এরকম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে পারে না।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একশ দিনের (MGNREGA) কাজ প্রকল্পে গত তিনবছর ধরে বাংলাকে ১ টাকাও ছোঁয়ায়নি নরেন্দ্র মোদী সরকার (Modi Government)। কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্ত যে রাজ্যের সঙ্গে চরম অসহযোগিতা তা মানছিল বাম দলগুলিও। বুধবার সেই প্রকল্পের ব্যাপারে মাইলফলক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। উচ্চ আদালতের নির্দেশ ১ অগস্ট থেকে ফের এই প্রকল্প শুরু করতে হবে।
এদিন মামলার শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন—“শুরু থেকেই একটা কথা বলছি— ১০টা আপেলের মধ্যে কয়েকটা পচা হতে পারে, কিন্তু বাকিরা তো স্বচ্ছ।” তাঁর কথায়, “যা হয়েছে, সেটা অতীত। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে প্রকল্প বন্ধ। এবার নতুন করে চালু করতেই হবে। কেন্দ্র এই প্রকল্প স্থগিত রাখতে পারে না।” প্রধানবিচারপতি এর পরই বলেন, জুলাই বা অগস্ট থেকে চালু করা যায় কিনা ভেবে দেখুন"।
শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, দুর্নীতি রুখতে কেন্দ্র শর্ত আরোপ করতে পারে, তদারকি করতে পারে, কিন্তু কোনও প্রকল্প এরকম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে পারে না।
একশ দিনের কাজ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যেও রয়েছে। এমনকি সম্প্রতি গুজরাতেও দুর্নীতির ঘটনা ধরা পড়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে প্রকল্প বন্ধ করা হয়েছে এবং পর পর দুটি বাজেটে একটা টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি, তার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিষন্ধি রয়েছে বলেই অনেকের মত।
এ ব্যাপারে পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই মত ছিল, কেন্দ্রের অবস্থান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গ্রামের মানুষ সরকারকে মাই-বাপ বলে মনে করেন। সেই সরকার কিছু মানুষের দুর্নীতির জন্য সবার কাজ পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।
আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়, যারা প্রকৃতপক্ষে কাজ করেছেন, তাদের বাধা দিতে চায় না কেন্দ্র। কিন্তু তারা সত্যিই কাজ করেছেন কিনা, সেটা নিশ্চিত করবে কে? রাজ্য যে বেআইনি ভাবে ব্যবহৃত টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে, তা কেন্দ্রকে ফেরত দিতে হবে। ভবিষ্যতে আবার দুর্নীতি আটকাতে হলে পুরো প্রকল্পের উপর নজরদারি কেন্দ্রের হাতে থাকতে হবে। সে জন্য নোডাল অফিসার রাখতে হবে।
তবে কেন্দ্রের এই বক্তব্য দুর্বল ঠেকেছে অনেকের কাছে। কারণ, নজরদারির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে কেন তিন বছর সময় লাগল সেটাই প্রশ্ন। এই তিন বছর ধরে ধরে লক্ষ লক্ষ গ্রামের মানুষ যে কাজ পেল না সে ব্যাপারে কৈফিয়ত কে দেবে?
আবার আদালতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নোডাল অফিসারের প্রয়োজন নেই, কারণ এই প্রকল্প পুরোপুরি সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই ভুলভ্রান্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে নজরে পড়তে বাধ্য।
তবে রাজ্যের ভূমিকাও যে এ ব্যাপারে খুব ভাল ছিল তা নয়। একশ দিনের কাজে ধারাবাহিক ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। তা বন্ধ করতে রাজ্য আগে তৎপর হয়নি কেন সেই প্রশ্নও রয়েছে।
তবে এদিন কলকাতা হাইকোর্ট যে পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ দিয়েছে তা রাজ্যের বহু লক্ষ মানুষ ও পরিবারের কাছে ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, অনেক দিন পর তাঁদের কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।