বিষয়টি এখন সরকারি ভাবে ঘোষণা না হলেও, নবান্ন ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করছে, এই ঋণের উদ্দেশ্য একটাই—সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 17 June 2025 20:57
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ পরিশোধ করতে বাজার থেকে ঋণ নিচ্ছে রাজ্য সরকার (Nabanna taking a huge loan to pay DA?)। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থ দফতর মার্কেট বরোয়িং (Market Borrowing)-এর জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিষয়টি এখন সরকারি ভাবে ঘোষণা না হলেও, নবান্ন ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করছে, এই ঋণের উদ্দেশ্য একটাই—সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো।
সুপ্রিম কোর্টের সাফ নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ কর্মচারীদের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে ১৫ জুনের মধ্যে সরকারের অবস্থান জানানোর কথা ছিল। কিন্তু ১৭ জুন পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে সরকার এখনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি, যা নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে।
ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি
নবান্ন সূত্র বলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে গিয়ে রাজ্য সরকার বড় অঙ্কের ঋণের জন্য ফর্মালি আবেদন করেছে। এর পাশাপাশি কিছু অর্থ রাজ্যের নিজস্ব কোষাগার থেকেও খরচ করা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকার ঠিক কত টাকার ঋণ নিচ্ছে, সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, বকেয়া ডিএর পুরোটা মেটাতে রাজ্যের খরচ হবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। শীর্ষ আদালত বলেছে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে অর্থাৎ আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্যকে ১০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে কর্মীদের। সূত্রের খবর, এই ১০ হাজার কোটি টাকা মেটাতে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে চলেছে রাজ্য।
ধোঁয়াশা: পুরো ২৫% নাকি কমিয়ে?
যদিও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ২৫% দেওয়ার, তবুও সরকারি স্তরে এখনও পরিষ্কার কিছু বলা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—পুরো ২৫% ডিএ দেওয়া হবে, নাকি কোনও আংশিক পরিমাণ? অর্থ দফতরের একাংশ মনে করছে, পুরোটা না হলেও গোটা প্রক্রিয়া চালু করে একাংশ মিটিয়ে ফেলা হতে পারে, বাকিটা পরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় কর্মী সংগঠনের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলার পরও যদি বিজ্ঞপ্তি না আসে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল।” তবে আবার কেউ কেউ আশাবাদী যে, “সরকার হয়তো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে অর্থনৈতিক রূপরেখা তৈরি করছে। তাই দেরি হচ্ছে।”
কী বলছে সূত্র?
নবান্ন ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সব ঠিকঠাক থাকলে এই সপ্তাহের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।
সংক্ষেপে:
• ৩০ জুনের মধ্যে ২৫% বকেয়া ডিএ দিতে হবে—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ।
• ১৫ জুনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি আসার কথা থাকলেও এখনও জারি হয়নি।
• বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে রাজ্য সরকার—নবান্ন সূত্র নিশ্চিত করছে।
• কত টাকা ধার নেওয়া হচ্ছে তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
• কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও সূত্র বলছে, কিছুটা ডিএ নিশ্চিত ভাবেই দেবে রাজ্য।