রাষ্ট্রপতি ভবনে এক অনুষ্ঠানে দেশের ৫৩-তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সূর্য কান্ত। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু হিন্দিতে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

রাষ্ট্রপতি ভবনে এক অনুষ্ঠানে দেশের ৫৩-তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সূর্য কান্ত।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে সোমবার শপথ নিলেন সূর্যকান্ত শর্মা। রাষ্ট্রপতি ভবনে এক অনুষ্ঠানে দেশের ৫৩-তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সূর্য কান্ত। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু হিন্দিতে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সূর্য কান্ত প্রধান বিচারপতি পদে থাকবেন ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্পিকার ওম বিড়লা, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই, জেপি নাড্ডা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রমুখ।
হরিয়ানার হিসার জেলার একটি শান্ত-নির্জন, ছিমছাম গ্রাম পেটোয়ারে জন্ম। ১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জন্ম সূর্যকান্ত শর্মার। একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরে জন্মেও ছোট থেকেই শিক্ষার প্রতি অনুরাগ তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল গ্রামের আর পাঁচটা ছেলের তুলনায়। বিচারপতি কান্তের পেটোয়ারে ছিল একান্নবর্তী পরিবার। পরিবারের একমাত্র জীবিকা ছিল চাষবাস। শুধুমাত্র তাঁর বাবা ছিলেন পরিবারে ব্যতিক্রম। তিনি ছিলেন শিক্ষক।
বিচারপতি কান্তের কথায়, আমার ছোট থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত কেটেছে পেটোয়ারে। পড়তাম গ্রামেরই সরকারি প্রাথমিক ও হাইস্কুলে। ম্যাট্রিকুলেশন পর্যন্ত গ্রামেই লেখাপড়া করেছি। স্কুলে পড়ার শেষে চাষের খেতে কাজ করতাম। তিনি প্রথম শহর দেখেন হিসারে এসে। সেখানে ম্যাট্রিক পাশের পর একটি সরকারি কলেজে উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন।
আইন পাশ করেন ১৯৮৪ সালে রোহতকের মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। হিসার জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরুর পর ১৯৮৫ সালে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে কাজ করেন। ২০০০ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি হরিয়ানার সর্বকনিষ্ঠ অ্যাডভোকেট জেনারেল পদে চাকরি পান। এদিন, ২৪ নভেম্বর দেশের ৫৩-তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হলেন হরিয়ানা থেকে প্রথম প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের ৭৫ বছরের ইতিহাসে হরিয়ানভি কেউ প্রধান বিচারপতির পদ অলঙ্করণ করেননি।
তিনি কেন আইনকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এই প্রশ্নের জবাবে সূর্য কান্ত বলেছিলেন, গ্রামের লোকের সঙ্গে খেতখামারে কাজ করতে গিয়ে জীবনের নানা পাঠ পেয়েছি। দেখেছি কী ভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামের মানুষ তাঁদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার তখনই মনে হয়েছিল, অন্তত একজন কাউকে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো দরকার। আর ঠিক তখনই আমি ভেবে নিয়েছিলাম আইনকেই আমার লড়াইয়ের হাতিয়ার করব।
২০০৪ সালে বিচারপতি সূর্য কান্ত পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০১৮ সালে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হন। পরের বছরই মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির দায়িত্বে চলে আসেন। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির মতো বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। সাংবিধানিক আইন, মানবাধিকা ও প্রশাসনিক ইস্যু সংক্রান্ত প্রায় হাজারখানেক রায়ের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছেন সূর্য কান্ত। এহেন বিচারপতি সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই বলেছেন, আমার মতোই বিচারপতি কান্তও সমাজের সেই শ্রেণির প্রতিনিধি, যারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লড়াই করে এসেছে। যাঁদের জন্য আইনের রক্ষাকবচ প্রয়োজন তাঁদের অধিকার তাঁর মতোই একজন মানুষের হাতে সুরক্ষিত থাকবে।