বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে এনডিএ-কে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন জিতেন রাম মাঝি। ১৫টি আসন না পেলে ক্ষমতাসীন জোটে লড়বে না তাঁর দল। দিল্লিতে বৈঠকের আগেই জোটে ফাটল নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা।
.jpeg.webp)
জিতেন রাম মাঝি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 22:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ-তে আসন ভাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে টানাপড়েন। হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেকুলার) বা হাম-এর প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতেন রাম মাঝি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দলকে যদি ১৫টির কম আসন দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনে লড়বেন না। এই প্রসঙ্গে তিনি ১০ অক্টোবর পাটনায় দলের বোর্ড মিটিং ডেকেছেন, যেখানে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
দিল্লিতে এনডিএ বৈঠকের আগে মাঝি বলেন, 'আমরা অপমানিত বোধ করছি। এনডিএ নেতাদের কাছে আবেদন করছি, আমাদের এই অপমান থেকে বাঁচান।' তিনি অতীতের কয়েকটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যেখানে হাম-কে উপেক্ষা করা হয়েছিল। বলেন, '২০১৫ সালের নির্বাচনে আমাদের দলের চার জন বিধায়ক ও এক জন বিধানপরিষদ সদস্য ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা বিতরণের সময় আমাদের কর্মীদের তালিকা দেওয়া হয়নি, কারণ আমাদের দলকে স্বীকৃতিই দেওয়া হয়নি। এটা কি অপমান নয়? আবার নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা যখন আসে, সব রাজনৈতিক দলকে ডাকা হয়েছিল, আমাদের বলাও হয়নি, কারণ আমরা শুধু নিবন্ধিত দল। এই অপমান আর কদিন সহ্য করব?'
মাঝির আবেদন, এনডিএ যেন তাঁদের দলের মর্যাদা রক্ষা করে। 'যার কোনও বিধায়ক নেই, সেও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কিন্তু আমরা শুধু এটাই বলছি, এনডিএ যেন আমাদের অপমান করে না। গত বিধানসভা নির্বাচনে আমরা সাতটি আসনে লড়েছিলাম, চারটেয় জিতেছিলাম। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ সাফল্য,' যুক্ত করেন তিনি।
আরও বলেন, 'যদি হাম-কে ১৫টি আসন দেওয়া হয়, তাহলে তারা ৮-৯টি আসন জিততে পারবে, যা বিহারে তাঁদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করবে। ১৫টি আসন না পাই, তাহলে আমরা শুধু নিবন্ধিত দল হিসেবে থাকব। তখন নির্বাচনে লড়ার কোনও মানে হবে না।'
তবে তিনি এনডিএ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন জানান এবং সুর নরম করে জানান, তাঁরা নরেন্দ্র মোদীর সম্মান করেন, যা তাঁর নির্দেশ ও এনডিএ-র নির্দেশ, সেই পথে পুরোপুরি কাজ করবে হাম। তাঁরা কারও দাবির বিরোধী নন, কিন্তু নিজেদের দলের মর্যাদা চান। 'আমরা আলাদা হওয়ার কথা ভাবছি না। শুধু এটাই অনুরোধ করছি যে আমাদের দলকে অপমান থেকে রক্ষা করুন,' বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
হাম-এর লক্ষ্য বিহারজুড়ে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া। এনডিএ-র আগের কয়েকটি বৈঠকে দেখা গেছে, হাম-এর প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী সক্রিয় ছিল, কিন্তু মঞ্চে ছিল জেডিইউ-র লোকজন। সেনিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর বক্তব্য, '৭০-৮০টি আসনে আমরা ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার ভোট পেতে পারি। রাজনৈতিক উপস্থিতি ও কেরিয়ার বজায় রাখতে আমাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ হল ১৫টি আসনে লড়া।'
এনডিএ-র দিল্লিতে বৈঠকের আগে এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু করেছে। হাম-এর এই হুঁশিয়ারি যদি গুরুত্ব না পায়, তাহলে জোটের ভেতরেই ফাটল ধরতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষক মহল।