পুলিশের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে ওই তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কিশোরীর মায়ের। তিনি নাকি কিশোরীর মাকে বোঝান যে, তাঁর ছেলের অসুস্থতা এবং পারিবারিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নরবলির মাধ্যমেই। তাকে বলা হয়েছিল, দুর্গাষ্টমীর দিন, অর্থাৎ রামনবমীর সময়েই এই ‘অনুষ্ঠান’ সম্পন্ন করতে হবে।

এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
শেষ আপডেট: 2 April 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভয়াবহ পরিণতি! ঝাড়খণ্ডের এক ঘটনায় সামনে এল শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ (Hazaribagh murder case)। হাজারিবাগ জেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে নাকি ‘নরবলি’ দেওয়া হয়েছে (Jharkhand human sacrifice case)। এই ঘটনায় কিশোরীর ৩৫ বছরের মা, মায়ের প্রেমিক এবং নিজেকে তান্ত্রিক (tantrik superstition crime India) বলে দাবি করা এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ মার্চ রাতে এই ঘটনা ঘটে কুসুম্ভা গ্রামে। সেদিন সন্ধ্যায় রাম নবমী উপলক্ষে ‘মঙ্গলা জুলুস’ চলাকালীন নিখোঁজ হয়ে যায় ওই কিশোরী। পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ একটি স্থানীয় মাধ্যমিক স্কুলের পিছনে বাঁশবনে তার দেহ উদ্ধার হয়।
প্রথমে কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধনেশ্বর পাসোয়ান নামে এক ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তবে তদন্ত রগোতে থাকলে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঝাড়খণ্ডের ডিজিপি ও জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ২৬ মার্চ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ যে ঘটনাক্রম সামনে এনেছে, তা তাদের কথায় ‘ভয়ঙ্কর’ এবং কুসংস্কারপ্রসূত।
তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় এক মহিলা শান্তি দেবী (৫৫), যিনি ‘ভগতিন’ নামে পরিচিত এবং তান্ত্রিক চর্চার দাবি করেন, তিনিই মূল অভিযুক্ত। তিনি নাকি কিশোরীর মাকে বোঝান যে, তাঁর ছেলের অসুস্থতা এবং পারিবারিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নরবলির মাধ্যমেই। এই জন্য একটি ‘কুমারী মেয়ে’ বলি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়েকেই নিয়ে আসতে রাজি করানো হয় ওই মাকে।
পুলিশের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে ওই তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কিশোরীর মায়ের। তাকে বলা হয়েছিল, দুর্গাষ্টমীর দিন, অর্থাৎ রামনবমীর সময়েই এই ‘অনুষ্ঠান’ সম্পন্ন করতে হবে।
ঘটনার রাতে, মা এবং তাঁর প্রেমিক ভীম রাম (৪০) কিশোরীকে পুজোর অজুহাতে তান্ত্রিকের বাড়িতে নিয়ে যান। প্রাথমিক কিছু আচার পালনের পর তাকে কাছের একটি বাঁশবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সেখানেই ভীম রাম শ্বাসরোধ করে কিশোরীকে হত্যা করে। অভিযোগ, সেই সময় মেয়েটি ছটফট করলে তার পা চেপে ধরেছিলেন তাঁরই মা। আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ, তান্ত্রিক ওই কিশোরীর শরীরে নৃশংস অত্যাচার চালান। তার যৌনাঙ্গে একটি কাঠের লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যদিকে ভীম রাম তার মাথায় আঘাত করে রক্ত সংগ্রহ করে তথাকথিত ‘আচারবিধির’র জন্য। এরপর দেহটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে এবং আদালতে পেশ করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভীম রামের বিরুদ্ধে আগেও খুনের অভিযোগ রয়েছে, নিজের বৌদি-সহ আরও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি।