উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে তান্ত্রিকের পরামর্শে নিজের ভাগ্নেকে নৃশংসভাবে ক্ষতি করলেন এক ব্যক্তি। তদন্তে প্রকাশ পেল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রয়াগরাজে হাড় হিম করা ঘটনা,
শেষ আপডেট: 28 August 2025 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তান্ত্রিকের পরামর্শে (Tantrik-Inspired Crime) ১৭ বছরের ভাগ্নেকে খুন করার পর তার দেহ থেকে মাথা আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) প্রয়াগরাজে (Prayagraj)। অভিযুক্তের নাম শরন সিং। তাকে কারেলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা অভিষেক ভারতী বলেন, শরন সিং নিহত কিশোরের দাদার ভাই। তিনি জানান, "তাকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরার সময় শরন তার ভাগ্নে পিয়ুশকে খুনের কথা স্বীকার করেছে এবং তার উদ্দেশ্যও জানিয়েছে।"
পুলিশ জানায়, শরনের ছেলে এবং মেয়ে যথাক্রমে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেছিল। শোকে কাতর হয়ে শরন একজন তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলেন এবং তার সন্তানদের মৃত্যুর কারণ জানতে চান। তান্ত্রিক তাকে বলেছিল যে পিয়ুশের মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার মৃত্যু না হওয়ায় শরনের নিজের সন্তানরা তার পরিবর্তে মারা গেছে। এরপর তান্ত্রিক শরনকে পিয়ুশকে হত্যা করার পরামর্শ দেয়।
সরস্বতী বিদ্যা মন্দিরের একাদশ শ্রেণির ছাত্র পিয়ুশ মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিল। সে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কিন্তু আর ফিরে আসেনি। চিন্তিত হয়ে তার মা কামিনী দেবী স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন যে পিয়ুশ সেদিন স্কুলে আসেনি। এরপর তিনি কারেলি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
পুলিশ তখন তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার তারা নৈনি শিল্প এলাকার একটি নর্দমা থেকে একটি ধড় উদ্ধার করে। তবে মাথা না থাকায় তখন দেহটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বুধবার কারেলির সাইদপুর কাছার এলাকা থেকে পিয়ুশের মাথা খুঁজে পাওয়া যায় এবং এর মাধ্যমেই দেহটি শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের তদন্তে এক স্থানীয় নারী জানান যে, তিনি একজন লোককে একটি স্কুটারে করে কিছু একটা নর্দমায় ফেলতে দেখেছিলেন। তার বর্ণনা শরনের চেহারার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, শরন কিশোরটিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। এরপর সে তার দেহ টুকরো করে এবং পিয়ুশের ধড় একটি শাড়িতে মুড়ে স্কুটারে করে কুড়িয়া লওয়ান গ্রামের কাছে নর্দমায় ফেলে দিয়েছিল।