ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। উত্তরপ্রদেশ মহিলা কমিশনের সদস্যা মীনাক্ষী ভরালা বুধবার নিক্কির পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুত চার্জশিট পেশ হবে এবং মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাকে আনা হবে।

নিক্কি ভাটি (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 28 August 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিক্কি ভাটি খুনে ক্রমশ গভীর হচ্ছে রহস্য। ২৮ বছরের এই তরুণীকে গত ২১ অগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠলেও, পুলিশের হাতে আসা হাসপাতালের মেমো এবং নিক্কির শেষ বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন দাবি। যা মিলছে স্বামী বিপিন ও তাঁর পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে।
চিকিৎসকদের কাছে নিক্কি নিজেই না কি বলেছিলেন, রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তাঁর শরীরে আগুন লেগেছে। সেই বক্তব্য মেদিকো, লিগ্যাল সার্টিফিকেটে (এমএলসি নম্বর ৭০৩) নথিভুক্ত হয়। সন্ধ্যা ছ’টার সময় গুরুতর অবস্থায় স্বামী বিপিন ভাটির আত্মীয় দেবেন্দ্র তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পুলিশি তদন্তে পরে জানা যায়, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কোনও প্রমাণ মেলেনি। বরং বাড়ি থেকে একটি ফাঁকা থিনারের বোতল এবং লাইটার উদ্ধার হয়, যা এখন মূল প্রমাণ হিসেবে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কাসনা থানার এসএইচও ধর্মেন্দ্র শুক্ল জানান, নিক্কি ইচ্ছে করেই সত্য গোপন করেছিলেন। তাঁর ধারণা, বোন কাঞ্চনের বিয়েও একই পরিবারে হওয়ায়, শ্বশুরবাড়ির কাউকে ফাঁসাতে চাননি তিনি। কাঞ্চন পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, তিনি নিজে দৌড়ে গিয়ে দেখেন, দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে নিক্কির শরীরে। বিপিন তখন সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি এক হাতে জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, অন্য হাতে মোবাইলে রেকর্ডিং করেন। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
নিক্কির ভাই ভিকি পৈলা জানিয়েছেন, প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে সম্মতি দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশের অনুরোধে রাজি হন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দাম্পত্যে অশান্তি চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। স্বামী-স্ত্রীর আলাদা বিছানা থেকেই মিলেছে তার প্রমাণ। তবে ঘটনার গুরুতর দিক সত্ত্বেও পরিবারের তরফে প্রথমে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। শেষকৃত্যের প্রায় ২০ ঘণ্টা পরে অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই বিপিন ভাটি ও তাঁর বাবা, মা এবং ভাই রোহিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। উত্তরপ্রদেশ মহিলা কমিশনের সদস্যা মীনাক্ষী ভরালা বুধবার নিক্কির পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুত চার্জশিট পেশ হবে এবং মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাকে আনা হবে। পাশাপাশি নিক্কির সন্তানের আর্থিক সুরক্ষার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে একদিকে হাসপাতালের মেমো, অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, দুইয়ের ফাঁকেই ক্রমশ জটিল হচ্ছে নিক্কি ভাটির মৃত্যুর তদন্ত।