মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা ফোন করে পারুলের মা'কে খবর দেন। তিনি বলেন, “আমি পৌঁছতেই দেখি মেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে, সারা শরীর জ্বলছে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লিতে পাঠাতে হয়েছে।

গৃহবধূকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!
শেষ আপডেট: 27 August 2025 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডার নিক্কি ভাটি মৃত্যুর ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই ফের পণের দাবিতে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশে (UP Dowry Linked Violence)। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতিতা। অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সকলেই পলাতক। তাঁদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রে খবর, আমরোহা জেলার নারাংপুর গ্রামে বিয়ে হয়েছিল পারুলের। তিনি পেশায় একজন নার্স। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে নির্যাতন চলত তাঁর ওপর। স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সকলেরই দাবি ছিল, একাধিকবার পণ চাওয়া হলেও কিছুই দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে প্রায়ই অশান্তি হত দম্পতির। পারুলের স্বামী সম্প্রতি রামপুর থেকে বরেলিতে বদলি হয়ে আসেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন বলেই জানা গেছে।
নির্যাতিতার ভাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে ছ'জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে- পারুলের স্বামী দেবেন্দ্র, তাঁর মা এবং আরও চার আত্মীয়, সোনু, গজেশ, জিতেন্দ্র ও সন্তোষ। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আমরোহা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'সব অভিযুক্ত এখন পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।'
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা ফোন করে পারুলের মা'কে খবর দেন। তিনি বলেন, “আমি পৌঁছতেই দেখি মেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে, সারা শরীর জ্বলছে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লিতে পাঠাতে হয়েছে। ও এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।'
পারুলের মা অনিতা জানিয়েছেন, 'প্রায় ১৩ বছর আগে পারুলের বিয়ে হয় দেবেন্দ্রর সঙ্গে। তাঁদের যমজ সন্তান রয়েছে, এক ছেলে এবং এক মেয়ে।'
নিক্কির মৃত্যুতে এখনও হইচই দেশজুড়ে। গ্রেটার নয়ডায় ২৬ বছরের তরুণী নিক্কিকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার অভিযোগ তাঁর স্বামী বিপিন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে নিক্কির বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই একের পর এক পণের দাবি চলছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিক্কির পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যেই একটি স্করপিও গাড়ি, একটি মোটরবাইক এবং সোনার গয়না দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আরও চড়া দাবি আসে, ৩৬ লক্ষ টাকা নগদ ও একটি বিলাসবহুল গাড়ি। এই দাবিই শেষ পর্যন্ত নিকির প্রাণ কেড়ে নেয়।
নিক্কির দিদি কাঞ্চন এমন একাধিক ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন, যেখানে দেখা যায় বিপিন ও তাঁর পরিবার নিক্কিকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে, চুল ধরে মারধর করছে এবং পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই বিপিন, তাঁর বাবা-মা এবং ভাইকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত বিপিন পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে গুলি চালাতে হয়, তাঁর পায়ে গুলি লাগে। মেয়ের মৃত্যু-শোকে কাতর বাবা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।