জইশ-ই-মহম্মদের নতুন মহিলা ব্রিগেড ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এ কয়েক দিনের মধ্যেই যোগ দিচ্ছেন হাজার হাজার মহিলা। অনলাইন উগ্রবাদী প্রশিক্ষণের (training) জন্য নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা ফি। নিরাপত্তা মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।
.jpeg.webp)
মাসুদ ও জইশ
শেষ আপডেট: 4 December 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) নতুন মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ (Jamaat-ul-Mominaat)। বাড়ছে সদস্য সংখ্যা, সূত্রের খবর জনে জনে মহিলারা যোগ দিচ্ছেন জেহাদি কার্যকলাপে। ইতিমধ্যেই ৫,০০০-এরও বেশি সদস্য ওই শাখার। জানিয়েছেন জইশ প্রধান মাসুদ আজহার (Masood Azhar) নিজেই।
মহিলাদের র্যাডিক্যালাইজ (Radicalisation) করে ভবিষ্যতে ‘ফিদায়েঁ’-স্টাইল (Fidayeen Style) সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ চালানো এর উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আজহার সম্প্রতি দাবি করেছেন, “কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ৫,০০০-এরও বেশি মহিলা যোগ দিয়েছেন মোমিনাতে। অনেকেই জানিয়েছেন, সংগঠনে ঢোকার পর তাঁদের মানসিক অবস্থার বদল হয়েছে, জীবনের উদ্দেশ্য নতুনভাবে বুঝতে পারছেন। প্রত্যেক জেলায় আলাদা ইউনিট হবে, একজন ‘মুনতাজিমা’ (Manager) নিয়োগ করা হবে।”
সূত্রের খবর, ৮ অক্টোবর থেকে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর, মুলতান, সিয়ালকোট, করাচি, মুজফফরাবাদ এবং কোটলি, এই সমস্ত অঞ্চল থেকে মহিলাদের নিয়োগ শুরু হয় জইশের সদর দফতর মার্কাজ উসমান-ও-আলি (Markaz Usman-o-Ali)-তে। এই মহিলা শাখার প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া (Sadia), আরেক গুরুত্বপূর্ণ মুখ আফিরা, পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড উমর ফারুকের (Umar Farooq) স্ত্রী।
সূত্রের দাবি, মহিলাদের অনলাইন প্রশিক্ষণের (Online Training) মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্লাস ৪০ মিনিটে, এবং অংশগ্রহণকারীদের দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা করে। এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য, মহিলাদের র্যাডিক্যালাইজ করে আইএসআইএস (ISIS), হামাস (Hamas), এলটিটিই (LTTE)-র ধাঁচে মহিলা ব্রিগেড তৈরি করা।
সম্প্রতি দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের (Delhi Blast) তদন্তেও উঠে এসেছে এই মহিলা শাখার নাম। ঘটনায় ধৃত শাহিন সইদ (Shaheen Saeed), যার কাছে ফারিদাবাদ থেকে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল, তার যোগ পাওয়া গেছে জমাত উল মোমিনাত-এর সঙ্গেই।
সংগঠনের প্রশিক্ষণনীতিও আগেই জানিয়েছিলেন মাসুদ আজহার। তাঁর কথায়, 'যেমন পুরুষ সদস্যদের ১৫ দিনের ‘দৌরা-এ-তারবিয়াত’ (Daura-e-Tarbiat) দেওয়া হয়, তেমনই মহিলা সদস্যদের জন্য ‘দৌরা-এ-তাসকিয়া’ (Daura-e-Taskiya) নামে আলাদা ইন্ডাকশন কোর্স থাকবে। এই প্রশিক্ষণও হবে মার্কাজ উসমান-ও-আলিতে।'
এ ছাড়াও কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে মহিলা সদস্যদের জন্য, সংগঠনভুক্ত কোনও মহিলা কোনও ‘অপরিচিত পুরুষ’-এর সঙ্গে ফোন বা মেসেঞ্জারে কথা বলতে পারবে না। শুধুমাত্র স্বামী বা নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি থাকবে।
জইশের মহিলা শাখার এত দ্রুত বৃদ্ধি এবং অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশন মডেল নিরাপত্তা সংস্থাকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানের মাটিতে গড়ে ওঠা এই মহিলা ব্রিগেড ভবিষ্যতে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে আমাদের।