সন্দেহ রয়েছে পাকিস্তানের ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ ‘সদাপে’তে। হামলায় মহিলা মডিউল ব্যবহারের পরিকল্পনাও চলছে - এই তথ্যে চিন্তা বাড়ছে তদন্তকারীদের।

বিস্ফোরণের সময় - জইশ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার
শেষ আপডেট: 19 November 2025 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে (Delhi Red fort blast investigation) একের পর এক উঠে আসছে এমন কিছু তথ্য, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গোয়েন্দাদের (Indian Intelligence)। বাড়ছে গভীর পাক-যোগের সম্ভাবনা। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) ফের ভারতকে টার্গেট করে ‘ফিদায়েঁ’ বা আত্মঘাতী হামলার ছক কষছে (Jaish-e-Mohammed Fidayeen Attack)। সেই লক্ষ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমে তোলার চেষ্টা চলছে বিপুল পরিমাণ চাঁদা (Digital Fundraising)।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লালকেল্লার গাড়িবোমা বিস্ফোরণের সূত্র ধরে জইশ নেতাদের এই তহবিল সংগ্রহের খবর মিলেছে। সন্দেহের তীর রয়েছে পাকিস্তানের ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ ‘সদাপে’-এর দিকে (Digital Terror Network)। হামলায় মহিলা মডিউল ব্যবহারের পরিকল্পনাও চলছে - এই তথ্য সামনে আসার পর থেকে চিন্তা বাড়ছে তদন্তকারীদের।
জানা গিয়েছে, জইশের আলাদা মহিলা শাখা ইতিমধ্যেই সক্রিয়। জইশ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া ওই ইউনিটের নেতৃত্বে। জানা গিয়েছে, পহেলগাম হামলার পর ভারতীয় বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ জইশের যে ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছিল, তার পরই এই মহিলা শাখার জন্ম।
লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন শাহিনা সঈদ, কোডনেম ‘ম্যাডাম সার্জন’। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্থের জোগানদার হিসেবেই তাঁর ভূমিকা ছিল। তিনি জইশের ওই মহিলা শাখা, ‘জমাত উল-মুমিনাত’-এর সদস্য।
চাঁদার ডাকও ভয়ঙ্কর ইঙ্গিতবাহী। তাদের বার্তা, যে কেউ এক ‘মুজাহিদের’ জন্য শীতের কিট দেবে, তাকেও ‘জিহাদি’ বলা হবে। এমনকী নিহত জঙ্গির ‘দেখভাল’ করলেও মিলবে সেই তকমা।
২০ হাজার পাকিস্তানি টাকা, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৪০০ - তা দিয়ে কেনা হবে টেরর কিট: জুতো, উলের মোজা, তাঁবু, ম্যাট্রেস। লক্ষ্য - মাঠে থাকা জঙ্গি সেলে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়া, ঠিক যেমন লালকেল্লা হামলায় ‘টেরর ডাক্তার’ মডিউল কাজ করেছিল। এ নিয়ে আলাদা তদন্তও শুরু হয়েছে।
গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে আই-২০ গাড়িতে বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ১৫ জনের। গাড়ি চালাচ্ছিলেন ডাঃ উমর উন নবি - যিনি নিজেও বিস্ফোরণে মারা যান। গতকাল তাঁর একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে আত্মঘাতী হামলা সম্পর্কে নিজের ব্যাখ্যা দেন তিনি।
এদিকে নতুন ইনপুট বলছে, জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-এ-তইবার মতো কুখ্যাত গোষ্ঠীগুলো নাকি তৈরি হচ্ছে সমন্বিত হামলার জন্য। উভয় সংগঠনেরই পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান সেনা ও সে দেশের ‘ডিপ স্টেট’। গত ছ’মাসে ভারতজুড়ে নাগরিকদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া দু'টি বড় হামলার পিছনে এই দুই গোষ্ঠীরই ছায়া ছিল - এই প্রেক্ষাপটেই গোয়েন্দা মহলে বেড়েছে উদ্বেগ।
এই দুই গোষ্ঠীর ‘অপারেশন স্টাইল’ থেকে ‘ইনডকট্রিনেশন’ - সব দিকেই নজরদারি জোরদার করেছে গোয়েন্দারা।