সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছে, কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal) হলেও 'রেড লাইন' মেনেই হবে এবং ভারতের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে, ফের একবার একথা স্পষ্ট করে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ' দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।'
জয়শঙ্কর আরও বলেন, 'আমাদের আমেরিকার সঙ্গে কিছু সমস্যা আছে। সবচেয়ে বড় কারণ, আমরা এখনও বাণিজ্য আলোচনায় কোনও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারিনি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর কিছু শুল্ক বসিয়েছে।'
তিনি জানান, আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার, তাই সেখানে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে বোঝাপড়া জরুরি। তবে সেই বোঝাপড়া এমন হতে হবে যেখানে ভারতের স্বার্থ ও সীমা রক্ষা পায়। 'যে কোনও আলোচনায় কিছু বিষয় নিয়ে সমঝোতা করা যায়, আবার কিছু বিষয় একদমই পরিবর্তন করা যায় না' ,বলেন জয়শঙ্কর।
বিদেশমন্ত্রীর কথায়, আমেরিকার চাপানো কিছু শুল্ক ভারত প্রথম থেকেই 'অন্যায্য' বলে মনে করছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোকে তিনি 'অযৌক্তিক' বলেও উল্লেখ করেছেন। এস জয়শঙ্করের মতে, 'অন্যান্য দেশও রাশিয়া থেকে জ্বালানি নিয়েছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।'
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছে, কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারত এই সিদ্ধান্তকেই 'অন্যায্য ও অযৌক্তিক' বলেছে।
তবে বিদেশমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই টানাপড়েন দুই দেশের সব সম্পর্ককে (India-US relation) প্রভাবিত করছে না। অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আগের মতোই চলছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আগের চেয়েও ভালোভাবে এগোচ্ছে। 'সমস্যা আছে, কিন্তু আমরা আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করছি', তিনি বলেন।
বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। এস জয়শঙ্কর আশাবাদী, 'খুব শীঘ্রই আমরা এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব, যেখানে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই সমঝোতা সম্ভব হবে।'