তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঘিরে টানাপোড়েন এখনও বহাল।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 September 2025 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য (India US Trade) চুক্তি হবে কিনা, তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নয়াদিল্লি (New Delhi) রাশিয়া (Russia) থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে কিনা তার ওপর। সাফ জানালেন আমেরিকার বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক (US Commerce Secretary Howard Lutnick)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লুটনিক বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে এগোচ্ছি। তবে শর্ত একটাই, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঘিরে টানাপড়েন এখনও বহাল।
অবশ্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে সদ্ভাবপূর্ণ বার্তাও শোনা গিয়েছে ওয়াশিংটনের দিক থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “আমার খুবই প্রিয় বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আগামী সপ্তাহে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটাতে আলোচনা চলছে। আমি আশাবাদী, আমাদের আলোচনার সফল পরিণতি হবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পাল্টা বন্ধুত্বের সুরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ভারত ও আমেরিকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পাশাপাশি স্বাভাবিক অংশীদার। আমাদের বাণিজ্যিক আলোচনা সীমাহীন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন চাপ থাকলেও, ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের কূটনৈতিক দিক আপাতত সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকছে। দুই দেশই চাইছে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে।
সম্প্রতি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে চিনে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মোদী।
চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা দেখার পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, ‘‘আমরা ভারত ও রাশিয়াকে চিনের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি।’’ তার কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, মোদীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুটই থাকবে। ট্রাম্পের কথায়, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ‘বিশেষ’ সম্পর্ক আছে।
বিভিন্ন দেশের উপরে চাপানো ট্রাম্পের ‘সিদ্ধান্ত’ বেআইনি বলে আমেরিকার আদালতে শুনতে হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে। তার পরে ‘বাণিজ্যচুক্তিবদ্ধ’ দেশগুলির জন্যে বিশেষ শুল্ক ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশেষ কিছু পণ্য আমেরিকায় রফতানির ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ দেশগুলিকে কোনও শুল্ক দিতে হবে না। তার পরে আবারও ভারতের ক্ষেত্রে ‘সুর নরম’ করেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে ‘সুসম্পর্কে’র বার্তাও দেন।