শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় (World's Parliament of Religions in Chicago) প্রথমেই বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “Sisters and Brothers of America…”। যা শুনে সভায় উপস্থিত প্রায় সাত হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে হাততালিতে দিয়ে ওঠেন।

নরেন্দ্র মোদী ও বিবেকানন্দ
শেষ আপডেট: 11 September 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। আমেরিকার শিকাগো শহরে (America) ধর্মমহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের উচ্চারণে গর্জে উঠেছিল বিশ্বমঞ্চ (Swami Vivekananda's Chicago speech)। বৃহস্পতিবার সেই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। এদিন ‘এক্স’-এ তিনি বিবেকানন্দের সেই বিখ্যাত ভাষণ ভাগ করে লিখলেন, “এটি নিছক এক বক্তৃতাই নয়, আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্তগুলির একটি।”
শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় (World's Parliament of Religions in Chicago) প্রথমেই বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “Sisters and Brothers of America…”। যা শুনে সভায় উপস্থিত প্রায় সাত হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে হাততালিতে দিয়ে ওঠেন। দুই মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সেই অভ্যর্থনার ঢেউ চলেছিল।
ভাষণে বিবেকানন্দ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভারতের মর্মবাণী হল সহিষ্ণুতা ও সাম্যের চেতনা। তিনি বলেন, “আমি গর্বিত এমন এক ধর্মের অন্তর্গত হতে পেরে, যা শুধু সহনশীলতাকেই নয়, সব ধর্মকেই সত্য বলে মেনে নেয়।”
তিনি স্মরণ করিয়েছিলেন, ভারতে ইহুদি শরণার্থীরা আশ্রয় পেয়েছিলেন যখন তাদের মন্দির ধ্বংস হয়েছিল। পার্সিদেরও ভারত আপন করে নিয়েছে।
বিবেকানন্দ গীতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, “যে কোনও পথ দিয়ে মানুষ আমার কাছে আসে, শেষ পর্যন্ত সব পথই আমার দিকেই নিয়ে আসে।” তাঁর যুক্তি ছিল, নানা মত, নানা পথ, নানা বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে যায় এক মহাসাগরে।
আজ থেকে শত বছরেরও আগের সেই ভাষণে তিনি সতর্ক করেছিলেন ধর্মান্ধতা, হিংসা আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। বলেছিলেন, “সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা আর ধর্মান্ধতা এই সুন্দর পৃথিবীকে বারবার রক্তাক্ত করেছে, সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে।” তবে তাঁর আশাবাদী উচ্চারণ ছিল, “আজ যে ঘণ্টা এই সম্মেলনের জন্য বাজল, তা হোক সাম্প্রদায়িকতা আর হিংসার মৃত্যুঘণ্টা।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এই ভাষণে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মহান আদর্শ বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপিত হয়েছিল, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া এই ভাষণ আমাদের অনন্ত প্রেরণা যোগায়।”
বস্তুত, কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই হামলার এক দিন পরে বৃহস্পতিবার মোদী কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। গাজা-যুদ্ধে ইজরায়েলের ভূমিকায় এর আগে কখনও সরাসরি নিন্দা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি ভারতকে। যদিও হামলার নিন্দা প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি ইজরায়েলের নামও নেননি। পরে তিনি এ নিয়ে টুইটও করেন। উল্লেখ্য, দোহায় হামাস নেতাদের খতম করতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল।