দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইজরায়েলের এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কাতারের আমির শেখ তামিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানান তিনি।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 10 September 2025 23:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোহায় ইসরায়েলের এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের উপর ইসরায়েলি বাহিনীর এয়ারস্ট্রাইকের ঘটনার পর বুধবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘দোহায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। ভারতের পক্ষ থেকে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'যে কোনও বিরোধ মেটাতে আলোচনাই হওয়া উচিত একমাত্র পথ।'
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, 'আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই। কূটনীতির মাধ্যমেই বিরোধ মেটানো সম্ভব। উত্তেজনা এড়ানো জরুরি। ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, আর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে।'
হামাসের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় অন্তত পাঁচ জন মারা গিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়ার ছেলে হাম্মাম আল-হাইয়া ও তাঁর অফিস ম্যানেজার জিহাদ লাবাদ। আরও তিন জন দেহরক্ষীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মোদী দোহায় কাতারের মধ্যস্থতা ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন। গাজার যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির মতো পদক্ষেপে কাতারের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলেই মত দেন। এর উত্তরে শেখ তামিম ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সংহতির বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কাতার-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি উঠে আসে দুই দেশের নেতাদের আলোচনায়। পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিও জোর দেন তাঁরা।
মোদীর বক্তব্যের আগে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দোহায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ইসরায়েলও স্বীকার করেছে, হামাসের শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে তারা এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কাতার। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল দোহায় বসবাসরত হামাস রাজনৈতিক ব্যুরোর একাধিক সদস্যের বাড়ি। এতে কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হন, আরও অনেকে জখমও হয়েছেন। কাতারের পাশাপাশি অন্যান্য দেশও একে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের সামিল বলে নিন্দা করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার আগে তাদের আগাম জানানো হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। হোয়াইট হাউসের তরফে বলা হয়েছে, ‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। তবে হয়তো শান্তির সুযোগ এনে দিতে পারে।’