Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

ছেলে গেছিলেন রাতের খাওয়া সারতে, উপরে পুড়ে শেষ মা! মৃত্যুপুরী জয়পুর হাসপাতালে এখন হাহাকারের আগুন

মৃতদের পরিবারের চোখে একটাই দৃশ্য ঘুরছে— আগুনের লেলিহান শিখা আর গেটের ওপারে তাঁদের প্রিয়জনের শেষ চিৎকার।

ছেলে গেছিলেন রাতের খাওয়া সারতে, উপরে পুড়ে শেষ মা! মৃত্যুপুরী জয়পুর হাসপাতালে এখন হাহাকারের আগুন

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 6 October 2025 12:58

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। জয়পুরের (Jaipur hospital fire) সওয়াই মান সিং (এসএমএস) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের বাইরে খেতে গেছিলেন নরেন্দ্র সিং। তাড়াতাড়ি খাওয়া সারছিলেন, কারণ কয়েক তলা ওপরে আইসিইউ-তে ভর্তি তাঁর মা কুষ্মা দেবী। খেতে খেতে জানতেও পারলেন না, কখন আগুনে পুড়ে মারা গেলেন মা! কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসপাতাল ভরে ওঠে ধোঁয়ায়, চিৎকারে, অসহায়তায়।

শনিবার গভীর রাতে এসএমএস হাসপাতালের ওই আইসিইউতে (Jaipur SMS hospital ICU fire) আগুন লাগে। মুহূর্তে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো ঘর। আটকে পড়েন রোগীরা। কারও হাতে তখন স্যালাইন, কেউ বা কোমায়। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত আট জনের। শর্ট সার্কিট, গাফিলতি, আর তালাবন্ধ গেট কেড়ে নিয়েছে প্রাণ।

মৃতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালের ডাক্তার ও স্টাফরা প্রথমে শর্ট সার্কিটের খবর পেয়েও পাত্তা দেননি। “বলেছিলেন, কিছু হবে না, নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে,” জানান জগিন্দর সিং। তাঁর মা ওই আইসিইউতেই ভর্তি ছিলেন, যেখানে প্রাণ গেছে কুষ্মা দেবীর। তিনি বলেন, “তারপর দেখি ছাদের প্লাস্টিক গলছে, ধোঁয়ায় চোখ জ্বলে যাচ্ছে, সবাই পালাচ্ছে। আমরা ঢুকতে চাইলে গেট বন্ধ করে দেয় ওরা।”

ওমপ্রকাশের মামার ছেলে, পিন্টু, ছিলেন সেই রুমেই। ক’দিন পর ছাড়া পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগুনে তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। কান্নাজড়ানো গলায় ওমপ্রকাশ বলেন, “আমি নিজে ডাক্তারদের বলেছিলাম শর্ট সার্কিটের কথা, কিন্তু তাঁরা হেসে উড়িয়ে দেন। ঘণ্টা দু’য়ের মধ্যে আমি নিজেই পিন্টুকে পুড়ে যাওয়া বিছানা থেকে টেনে বার করি।”

ভয়াবহ রাতে হাসপাতালের ভিতর ভাঙা কাঁচ, জ্বলে যাওয়া যন্ত্রপাতি, আর পোড়া দেহের গন্ধে মিশে গেছে শোক ও ক্ষোভ। “ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি, আগুন নেভানোর ছোট লাল সিলিন্ডারগুলোও পুরো খালি ছিল, দমকল এল প্রায় এক ঘণ্টা পরে।”-- বললেন রমাকান্ত। তাঁর অচেতন বোন ওই অবস্থাতেই শেষ হয়ে গেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য দায় এড়িয়ে বলেছে, ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস এত দ্রুত ছড়াচ্ছিল যে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রমা সেন্টারের ইন-চার্জ অনুরাগ ঢাকড়ের দাবি, “আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করেছি, দমকল ডেকেছিলাম।”

কিন্তু মৃতদের পরিবারের চোখে একটাই দৃশ্য ঘুরছে— আগুনের লেলিহান শিখা আর গেটের ওপারে তাঁদের প্রিয়জনের শেষ চিৎকার।

রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।” প্রশাসনিক ভাষায় ওই শব্দের ওজন যতই হোক, ওই রাতে যাদের মা, ভাই, বোন পুড়ে ছাই হয়ে গেল, তাদের কাছে এ শুধু একটাই কথা— “ওই গেটের তালার পিছনে, আমরা আমাদের আপনজনকে হারালাম।”


```