তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) এবং আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাইয়ের (Jai Dehadrai) মধ্যে বহুদিনের আইনি দ্বন্দ্ব এবার এক অদ্ভুত মোড় নিল। তাঁদের পোষ্য রটওয়াইলার কুকুর ‘হেনরি’র হেফাজত নিয়ে লড়াই মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে পৌঁছল। এদিন উচ্চ আদালতে নতুন আবেদন জানালেন দেহাদ্রাই।

শেষ আপডেট: 10 March 2026 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) এবং আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাইয়ের (Jai Dehadrai) মধ্যে বহুদিনের আইনি দ্বন্দ্ব এবার এক অদ্ভুত মোড় নিল। তাঁদের পোষ্য রটওয়াইলার কুকুর ‘হেনরি’র হেফাজত নিয়ে লড়াই মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে পৌঁছল। এদিন উচ্চ আদালতে নতুন আবেদন জানালেন দেহাদ্রাই।
এই মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট মহুয়া মৈত্রকে নোটিস পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্য চেয়েছে। বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরির বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৪ মে।
জয় দেহাদ্রাই হাইকোর্টে আবেদন করে সাকেত আদালতের একটি নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেছেন। ওই ট্রায়াল কোর্টে মহুয়া মৈত্রর দায়ের করা পোষ্য কুকুরের যৌথ হেফাজতের মামলা খারিজ করার দাবি তুলেছিলেন জয়। ট্রায়াল কোর্ট তাঁর সেই আবেদন খারিজ করেছিল।
মঙ্গলবার হাইকোর্টে নিজেই হাজির হয়ে দেহাদ্রাই আদালতকে অনুরোধ করেন, তাঁর আবেদনটির দ্রুত শুনানি হোক। তিনি বলেন, তাঁর আবেদন মামলার মূল ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত এবং তাই এটি আগে শোনা উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, হাইকোর্ট যেন আপাতত ট্রায়াল কোর্টে চলা মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখে। তবে বিচারপতি ওহরি স্পষ্ট করে জানান, মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য না শুনে আদালত কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না।
দেহাদ্রাই আদালতকে বলেন, মহুয়ার করা একটি আপিলের শুনানি ২৯ এপ্রিল নির্ধারিত রয়েছে। তাই তাঁর আবেদনটি সেই তারিখের আগেই শুনতে হবে। এর পর আদালত জুলাই মাসে শুনানির সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করে, তখন দেহাদ্রাই আপত্তি জানিয়ে বলেন, এতে তাঁর প্রতি অবিচার হবে। শেষ পর্যন্ত আদালত মামলায় নোটিস জারি করে মহুয়া মৈত্রের জবাব তলব করে এবং ১৪ মে শুনানির দিন ঠিক করে।
কী এই হেনরিকে ঘিরে আইনি লড়াই
এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে মহুয়া মৈত্র ও জয় দেহাদ্রাইয়ের পোষ্য রটওয়াইলার কুকুর হেনরি। বর্তমানে এই কুকুরের হেফাজত নিয়ে সাকেত আদালতে একটি মামলা চলছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ট্রায়াল কোর্ট মহুয়া মৈত্রের একটি আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই আবেদনে তিনি প্রতি মাসে ১০ দিনের জন্য অন্তর্বর্তী হেফাজত (interim custody) চেয়েছিলেন।
অন্যদিকে দেহাদ্রাই ট্রায়াল কোর্টের আরেকটি নির্দেশও চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে তাঁকে এই কুকুরের হেফাজত সংক্রান্ত বিরোধ সর্বসমক্ষে প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মহুয়া মৈত্র ও জয় দেহাদ্রাইয়ের মধ্যে আইনি দ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত কয়েক বছরে তাঁদের মধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে। দেহাদ্রাই আগে অভিযোগ করেছিলেন, ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন মহুয়া মৈত্র। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও এই অভিযোগ নিয়ে লোকসভা স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। এর ভিত্তিতে লোকসভা এথিক্স কমিটি তদন্ত করে এবং ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর মহুয়া মৈত্রকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মহুয়া মৈত্র অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, দর্শন হিরানন্দানি তাঁর বন্ধু এবং কোনও রকম লেনদেন বা বোঝাপড়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। অন্যদিকে দেহাদ্রাই ও দুবের দাবি ছিল, মহুয়া তাঁর লোকসভা লগইন অ্যাকাউন্ট হিরানন্দানিকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।
এই অভিযোগের জেরে মহুয়া মৈত্র দেহাদ্রাই ও দুবের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। তবে ২০২৪ সালের মার্চে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত তখন পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি “পুরোপুরি মিথ্যা” বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না। এই মামলাগুলির বেশ কিছু এখনও আদালতে বিচারাধীন। এখন তারই মধ্যে নতুন করে সামনে এসেছে পোষ্য কুকুর হেনরির হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই।