ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, যেহেতু ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক আপত্তি ও দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে, তাই ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 10 March 2026 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, যেহেতু ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক আপত্তি ও দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে, তাই ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
শীর্ষ আদালত এদিন নির্দেশ দিয়েছে, এই বিষয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ করবেন।
সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের প্রসঙ্গে এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও (Gyanesh Kumar) প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হবে। তা ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হবে। সাধারণ মানুষকেও জানানো হবে”। অর্থাৎ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পরিষ্কার বুঝিয়ে দেন, এ ব্যাপারে আদালতের দেখানো পথেই চলবে কমিশন।
৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে নিষ্পত্তি ১০ লক্ষ
শুনানির সময় আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি আপত্তি বা দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব বলে তিনি আদালতে আবেদন করেন কল্যাণ।
সেই বক্তব্য শোনার পরই অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
৩ লক্ষের বেশি আবেদন বাতিল
আদালতে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন খারিজ হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে দেখলে, মোট নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য করা বিপুল সংখ্যক আবেদন পর্যালোচনার পর একটি বড় অংশ বাদ পড়েছে। ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ গেছে। ফলে চূড়ান্ত বাদ যাওয়ার সংখ্যাটি দাঁড়ল প্রায় ৬৭ লক্ষ।
আপিল শুনতে গঠিত হবে ট্রাইব্যুনাল
এই বিপুল সংখ্যক বাতিল আবেদনের কারণে আপিলের চাপও বাড়বে বলে মনে করছে আদালত। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্ট এদিন নির্দেশ দিয়েছে, একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। তাঁর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক প্রাক্তন বিচারপতি থাকতে পারবেন। ট্রাইব্যুনালের সদস্য সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়ানো যাবে। এই ট্রাইব্যুনালের সমস্ত খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী প্রাক্তন বিচারপতিদের নাম সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
শুনানির সময়ে এদিন শীর্ষ আদালত জানায়, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা ইতিমধ্যেই বিরাট চাপের মধ্যে কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হচ্ছে এবং কাজের চাপ সামলাতে অনেকের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছ থেকে আর কতটা ত্যাগ আশা করা যায়?” সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বিচারিক আধিকারিকদের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা
ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হলে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নামগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে যেসব আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য আপিলের পথও পরিষ্কার হবে।
এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্যায়টি শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিকে এগোবে নির্বাচন কমিশন।