হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বাছাই করা এই জুডিশিয়াল আধিকারিকদের ৭ মার্চের কাজ শেষ করে বর্তমান দফতর থেকে অব্যাহতি নিতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 March 2026 21:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকার (Under Adjudication) অসংগতি দূর করতে রাজ্যের চার জেলায় ১৩৮ জন জুডিশিয়াল আধিকারিককে মোতায়েন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের অ্যাপিলেট সাইড থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (WBJS) ১৩৮ জন আধিকারিককে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় পাঠানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটার তালিকার বকেয়া এসআইআর-এর কাজ (বিবেচনাধীন) দেখার জন্যই এই নিয়োগ।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বাছাই করা এই জুডিশিয়াল আধিকারিকদের ৭ মার্চের কাজ শেষ করে বর্তমান দফতর থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। এরপর ১০ মার্চের মধ্যে তাঁদের নির্দিষ্ট জেলায় যোগ দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তাঁদের ৭ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্টেশন লিভের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এই কাজে যোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা (TA/DA) পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ গরহাজির, কারও অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন’। ওই বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৭ লক্ষ বিচারাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বাকি বিবেচনাধীন ভোটার নিষ্পত্তি হতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, তা নিয়ে ধন্দে কমিশনও।
এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছেন মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলায়। প্রকাশিত ভোটার তালিকায় মালদহে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। ওই জেলায় বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন।
কমিশন অবশ্য আশাবাদী। কারণ, নিষ্পত্তির কাজের জন্য বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারক আনা হচ্ছে। তাঁরা কাজে যোগ দিলে বাছাই এবং নিষ্পত্তির গতি বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষ হতে ঠিক কত দিন লাগবে, এ নিয়ে নির্দিষ্ট আভাস মিলছে না। বা আদৌ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছেই।