২০২৭ সালের মধ্যে ভারত নিজস্ব রকেটে একজন মানুষকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাবে। শুভাংশুর অভিজ্ঞতা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। চিকিৎসা, মহাকাশযান পরিচালনা এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অনুপস্থিতিতে মানুষের কাজ করার ক্ষমতা, সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গগনযান প্রকল্পে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 23 July 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে সফলভাবে ফিরে এসেছেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। দেশের এই ঐতিহাসিক মিশনকে সম্পূর্ণ সফল এবং নিরাপদ বলে জানালেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড: ভি নারায়ণ (ISRO Chief Dr V. Narayanan)। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, 'শুভাংশু এখন একেবারে সুস্থ, আনন্দিত। চিকিৎসকরা যেসব তথ্য দিচ্ছেন, তাতে আমরা সম্পূর্ণ আশ্বস্ত।'
এই মিশন ছিল ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান- গগনযান প্রকল্পেরই প্রথম ধাপ। যার মূল লক্ষ্য ছিল, মহাকাশে মানুষের শরীর ও মন কীভাবে কাজ করে তা বোঝা এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।
ইসরো প্রধান (ISRO Chief) বলেন, 'আমরা শুভাংশুকে নিরাপদে মহাকাশে পাঠিয়েছি এবং নিরাপদভাবেই ফিরিয়ে এনেছি। সেখানকার সমস্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্য এখন গগনযান প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।'
তাঁর কথায়, উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মতো স্বয়ংক্রিয় মিশনের তুলনায় মানব মহাকাশ অভিযান অনেক বেশি জটিল, কারণ সেখানে মানুষের সঙ্গে রকেট ও মহাকাশযানের সরাসরি সংযোগ থাকে। এই কারণে তাঁদের কাছে শুভাংশুর নিরাপদ যাত্রা ও প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিরাট সাফল্য।
এই সফলতা শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, দেশবাসীর কাছে এটি এক গর্বের মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে ও সংসদের বাজেট অধিবেশন সূচনার ভাষণেও এই সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়েছেন। ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মনে করছে বিজ্ঞানীরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারত নিজস্ব রকেটে একজন মানুষকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাবে। শুভাংশুর অভিজ্ঞতা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। চিকিৎসা, মহাকাশযান পরিচালনা এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অনুপস্থিতিতে মানুষের কাজ করার ক্ষমতা, সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গগনযান প্রকল্পে।