ইরান-আমেরিকা সংঘাত নতুন মাত্রা নিচ্ছে, আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বেই। এই পরিস্থিতিতে ভারত সতর্ক অবস্থানে থেকে নিজের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

শেষ আপডেট: 20 February 2026 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার (Iran US tensions) মাঝে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত, শুক্রবার নয়াদিল্লি সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান (India MEA statement), সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং তেহরানে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছে (India MEA in contact with indians of Tehran)। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতির (Middle East crisis) দিকে নজর রাখছি এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি (Tehran situation)।”
কেন বাড়ছে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা?
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা হঠাৎই বেড়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর উপর।
আরব দুনিয়ায় ইতিমধ্যেই আমেরিকা তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যেই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান পাঠানো এবং প্রয়োজন মতো অতিরিক্ত সেনা প্রস্তুত রাখা - সব দিকে প্রস্তুতি সেরে রাখছে আমেরিকা।
ফলপ্রসূ হয়নি জেনেভা আলোচনাও
সম্প্রতি জেনেভাতে হওয়া বৈঠকেও কোনও বড় অগ্রগতি হয়নি। যদিও কিছুটা আলোচনা এগিয়েছে, তবুও মূল ইস্যুগুলিতে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব থেকেই গিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিয়াভিট জানিয়েছেন, আলোচনা কিছুটা এগোলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ফিরতে হবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে দুই পক্ষ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজনে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ঘাঁটি ব্যবহারের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ইরানও চুপ করে নেই, তারা যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে নৌ-মহড়া হোক বা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছে লাইভ-ফায়ার ড্রিল নিয়ে তৈরি তারা। একই সময়ে আমেরিকাও ওই অঞ্চলে এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ও অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক (Donald Tusk) তাঁর দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে পারে এবং সরানোর সুযোগ হঠাৎই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইরান-আমেরিকা সংঘাত নতুন মাত্রা নিচ্ছে, আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বেই। এই পরিস্থিতিতে ভারত সতর্ক অবস্থানে থেকে নিজের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কূটনীতি নাকি সংঘাত - পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনও অনিশ্চিত।