বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণ চালানো হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানাল ইরান। উপ-বিদেশমন্ত্রীর দাবি, হামলার লক্ষ্য শুধুমাত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা চরমে। ইরান (Iran), ইজরায়েল (Israel) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (United States) হামলা- পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই আবহেই দিল্লির রাইসিনা ডায়ালগে (Raisina Dialogue) গুরুত্বপূর্ণ দাবি করলেন ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী সইদ খতিবজাদেহ (Saeed Khatibzadeh)। তাঁর বক্তব্য, ইরানের সামরিক হামলা শুধুমাত্র মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদকে লক্ষ্য করেই চালানো হচ্ছে। আরব দেশগুলির কেউ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
‘টার্গেট শুধু মার্কিন ঘাঁটি’
রাইসিনা ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রশ্ন ওঠে, ‘বর্তমানের হামলায় আরব বন্ধু বা প্রতিবেশীদের মধ্যে একজনও কেন হতাহত হয়নি?’ বদলে খতিবজাদেহর দাবি, ‘হয়নি কারণ আমরা শুধু মার্কিন ঘাঁটি এবং মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করছি। যেখানে তারা বিভিন্ন আবাসিক এলাকার আড়ালে অবস্থান করছে, সেখানেই হামলা চালানো হচ্ছে।’
আরব দুনিয়ায় সাম্প্রতিক কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উত্তেজনা বাড়তেই এই মন্তব্য করেন তিনি। জানিয়ে দেন, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ পরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ।
নিরস্ত্র জাহাজে হামলার অভিযোগ
মার্কিন হামলারও কড়া সমালোচনা করেন খতিবজাদেহ। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি একটি জাহাজে নিরস্ত্র মার্কিন বাহিনীর হামলা হয়েছে। ‘জাহাজটি আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের আমন্ত্রণে এখানে এসেছিল। সেটি নিরস্ত্র ছিল। তবু মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে—এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক,’ বলেন তিনি। দিল্লি সফরের সময় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়েছে বলে জানান।
‘ইরান ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠাননির্ভর রাষ্ট্র’
মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। সেই মন্তব্যেরও জবাব দেন খতিবজাদেহ। তাঁর কথায়, ‘ইরান কোনও ব্যক্তিনির্ভর রাষ্ট্র নয়। আমাদের সংবিধান আছে, ক্ষমতার বিভাজন আছে। নির্বাহী, বিচারব্যবস্থা এবং আইনসভা—সবই রয়েছে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (Ali Khamenei) নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তাঁকে অবৈধভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রশাসন স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এটাই আমাদের শক্তি।’
খতিবজাদেহ এদিন দিল্লিতে ইরান দূতাবাসেও যান। সেখানে খামেনেইয়ের স্মরণে রাখা বইয়ে স্বাক্ষর করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা (Grand Mosalla) প্রার্থনাকেন্দ্রে তিন দিনের বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাইসিনা ডায়ালগ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব (Alexander Stubb)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক এবং বিশ্লেষকরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।