বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের উদাসীনতা, ধুলো জমে থাকা ফাইল আর নিকাশি ব্যবস্থায় ঘাটতি এই বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করছেন অনেকে (Contaminated water deaths)। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই একই অভিযোগ।
.jpg.webp)
ইন্দোর বিপর্যয়
শেষ আপডেট: 8 January 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটানা আটবার ভারতের 'স্বচ্ছ' শহরের তকমা পেয়েছে ইন্দোর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যেন সেখানে অভিশাপের কালো ছায়া নেমে এসেছে। নোংরা জল পান করে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের (Indore water tragedy)। হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক। তবে এটি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের উদাসীনতা, ধুলো জমে থাকা ফাইল আর নিকাশি ব্যবস্থায় ঘাটতি এই বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করছেন অনেকে (Contaminated water deaths)। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এই একই অভিযোগ।
২০০৪ থেকে শুরু সমস্যা, ২০১৯ সালে CAG-এর লাল পতাকা
২০০৪ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে ইন্দোর-ভোপাল-জবলপুর-গোয়ালিয়রের জলব্যবস্থা আধুনিক করার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব নিরীক্ষক (CAG) রিপোর্ট জানায়, এই প্রকল্প বাস্তবে ব্যর্থ। রিপোর্টে উঠে আসে—
ভাগীরথপুরের নথি বলছে, অবহেলাই সর্বনাশ ডেকে এনেছে
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা কিছু নথির ভিত্তিতে জানা গেছে, ভাগীরথপুরায় পাইপলাইন বদলের কাজ ২০২২ সালেই নথিভুক্ত হয়েছিল (Bhagirathpura water crisis)।
তদন্তে দেখা গেছে, ভাগীরথপুরে পুলিশের আউটপোস্টের পাশে জলের পাইপ ভেঙে গিয়েছিল। খুব কাছেই ছিল নিকাশিনালা। সামান্য ক্ষতিও মারাত্মক দূষণের কারণ হতে পারে, এটি সবাই জানত। কিন্তু সঠিক সময়ে কেউ ব্যবস্থা নেয়নি।
CAG রিপোর্টে দেখা যায়-
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের দাবি, ভাগীরথপুরের এই ‘ট্র্যাজেডি’ কোনও দুর্ভাগ্য নয়, এটি একটি মৃত্যুফাঁদ, যা বছরের পর বছর প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করেছে (Preventable tragedy)। ফাইলবন্দি সতর্কবার্তা, ভাঙা পাইপ, অব্যবস্থা ও নজরদারি-শূন্য জলের ব্যবস্থাই আজ সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।