মামলা চলাকালীন একের পর এক গরমিল ধরা পড়ে। কোন জায়গায় গাড়ি থামানো হয়েছিল, কে অভিযুক্তকে ধরেছিল, কতক্ষণ তল্লাশি চলেছিল- এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর কেউই দিতে পারেনি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 January 2026 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা নাকি ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে (Rats ate 200 kgs ganja), এই তথ্যই আদালতে জানাল পুলিশ (Ranchi drugs case)। আর প্রমাণের অভাবেই শেষ পর্যন্ত মাদককাণ্ডে অভিযুক্ত এক যুবককে বেকসুর খালাস করল আদালত (Ranchi court acquits man)। রাঁচির এই ঘটনা সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে। ওরমাঞ্জি থানার পুলিশ এনএইচ ২০-তে একটি গাড়ি তল্লাশি চালায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তখন একটি সাদা বোলেরো গাড়িকে আটকায়। অভিযোগ ছিল, ওই গাড়িতে রাঁচি থেকে রামগড়ের দিকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গাড়ি থামতেই তিনজন পালানোর চেষ্টা করে। তাঁদের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ রাই নামে বিহারের বৈশালী জেলার বাসিন্দা এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি দু’জনকে ধরা সম্ভব হয়নি।
গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা (Ganja worth 1 crore)। এরপর ইন্দ্রজিৎ রাইকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয় এবং একাধিক ধারায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
কিন্তু মামলা চলাকালীন একের পর এক গরমিল ধরা পড়ে। কোন জায়গায় গাড়ি থামানো হয়েছিল, কে অভিযুক্তকে ধরেছিল, কতক্ষণ তল্লাশি চলেছিল- এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর কেউই দিতে পারেনি। সাক্ষীদের বয়ানেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ফলে মামলা ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে।
এসবের মধ্যেই পুলিশ আদালতকে জানায়, যে ২০০ কেজি গাঁজা মলখানায় রাখা ছিল, তা ২০২৪ সালে ইঁদুর নষ্ট করে দিয়েছে বলে ডায়েরিতে নথিবদ্ধ আছে। আদালত এই দাবি শুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিচারকের ভাষায়, এটি পুলিশের চরম গাফিলতি কারণ মাদক মামলায় 'প্রমাণ' রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশেরই ছিল।
আদালত রায়ে জানায়, 'অভিযুক্তের সঙ্গে উদ্ধার মাদকের কোনও নির্ভরযোগ্য যোগসূত্র দেখাতে পারেনি মামলাকারী। গাঁজা নেই, প্রমাণ নেই, আর হেফাজতের শৃঙ্খলও (chain of custody) ভেঙে গেছে। তাই সন্দেহের অবকাশে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া ছাড়া উপায় নেই (Ranchi court acquits man)।'
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ধানবাদের এক গুদামে রাখা মদ নিয়েও ‘ইঁদুরে খাওয়ার’ দাবি তুলেছিল কর্তৃপক্ষ।