প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জল খেয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দেড়শো।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 1 January 2026 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের দিনেও পানীয় জলের দূষণে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর (Madhya Pradesh Indore)। ছ’মাসের এক শিশুর মৃত্যুতে (Child Death) আরও ভয়াবহ হয়ে উঠল পরিস্থিতি। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জল খেয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দেড়শো। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছুঁয়েছে (Madhya Pradesh)।
বুধবার মারাঠি মহল্লার বাসিন্দা সুনীল সাহু জানান, দূষিত জল মিশিয়ে দুধ খাওয়ানোর পর থেকেই তাঁর ছ’মাসের ছেলের বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ শুরু হয়। দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে শিশুটির। চিকিৎসা চললেও বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, প্রায় দশ বছর চিকিৎসার পর জন্মেছিল ওই শিশু। গর্ভাবস্থায় নানা শারীরিক জটিলতার কারণে সুনীলের স্ত্রী সাধনা দীর্ঘ দিন শয্যাশায়ী ছিলেন।
সংবাদমাধ্যমকে সাধনা জানান, শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁকে প্যাকেটজাত দুধ জল মিশিয়ে খাওয়াতে হত। সেই জলই দূষিত ছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর কথায়, “আমি আমার সন্তানকে হারালাম। এই নোংরা জলের জন্য আর কত শিশুকে ভুগতে হবে, জানি না।” পরিবার আরও জানিয়েছে, তাঁদের দশ বছরের মেয়েও নিয়মিত পেটের যন্ত্রণার কথা বলছে।
মধ্যপ্রদেশ স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত জল খেয়ে অন্তত ১৪৯ জন অসুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিকাশি লাইনের ফাটল থেকে পানীয় জলের পাইপলাইনে নোংরা জল ঢুকে পড়েছিল। নর্মদা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্দোরে জল সরবরাহ হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিকাশি লাইনের লিকেজ থেকেই এই ঘটনা। ভবিষ্যতে যাতে এমন গাফিলতি না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।” ইতিমধ্যেই পুরসভার এক জোনাল অফিসার এবং ভাগীরথপুরার এক সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এ দিকে মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, গত দিনের তুলনায় হাসপাতালে নতুন রোগীর সংখ্যা কমেছে। আক্রান্ত এলাকা মূলত আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের বসতি হওয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়ে বাসিন্দাদের জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।