ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না। তবে বনদফতরের আধিকারিকদের দাবি, দেহে আপাতত আঘাত বা বিষক্রিয়ার স্পষ্ট চিহ্ন নেই।

আবার বাঘের মৃত্যু
শেষ আপডেট: 29 December 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) ফের একটি বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রবিবার সাগর জেলার ধানা-সাগর রোডের কাছে হিলগাঁও গ্রামের পাশে একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী বাঘের (Tiger Death) দেহ উদ্ধার হয়েছে। বয়স আনুমানিক ১০ বছর। এই নিয়ে চলতি বছরে মধ্যপ্রদেশে বাঘের মৃত্যুর (Tiger Count) সংখ্যা পৌঁছল ৫৫-এ। যা ১৯৭৩ সালে প্রোজেক্ট টাইগার (Project Tiger) শুরু হওয়ার পর সর্বাধিক।
গ্রামবাসীরাই প্রথম বাঘের দেহ দেখতে পেয়ে বনদফতরে খবর দেন। ঘটনাস্থল ধানা ফরেস্টরেঞ্জের অন্তর্গত, সাগর দক্ষিণ বনবিভাগ এলাকায়। ধানা রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসার প্রতীক শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না। তবে বনদফতরের আধিকারিকদের দাবি, দেহে আপাতত আঘাত বা বিষক্রিয়ার স্পষ্ট চিহ্ন নেই।
তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ, অবৈধ বিদ্যুৎ ফাঁদের শিকার হতে পারে ওই বাঘিনী। ফসল বাঁচাতে গ্রামাঞ্চলে বন্য শুয়োর বা হরিণ আটকাতে এ ধরনের বিদ্যুৎ ফাঁদ পাতা হয় বলেই বনকর্তাদের অনুমান। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বাঘিনীটি স্থানীয় বনাঞ্চলের বাসিন্দা ছিল নাকি বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী বা পান্না টাইগার রিজার্ভ থেকে এই এলাকায় চলে এসেছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যে ৫৫টি বাঘের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্তত ১১টি ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে প্রায় আটটি মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার যোগ মিলেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকর্মী অজয় দুবে লেখেন, “আর কত দিন এ ভাবে বাঘ মরবে? শুধু এ বছরেই ৫৫টি বাঘ মারা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশে। দায় নেবে কে?”
‘টাইগার স্টেট’ হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রদেশে পরপর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। গত এক সপ্তাহেই রাজ্যে ছ’টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। শনিবারই বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভে, উমারিয়া জেলার চান্দিয়া বনাঞ্চলে একটি বাঘের দেহ উদ্ধার হয় বিদ্যুৎ লাইনের কাছে। সেখানেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বনদফতর।
পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে বাঘের মৃত্যু ক্রমেই বেড়েছে— ২০২১ সালে ৩৪, ২০২২-এ ৪৩, ২০২৩-এ ৪৫, ২০২৪-এ ৪৬ এবং চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ৫৫। বছর শেষ হতে এখনও সময় বাকি।
বনদফতর বহু ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বাঘে-বাঘে সংঘর্ষের কথা বললেও সংরক্ষণকর্মীদের মতে, অবৈধ শিকার, বিদ্যুৎ ফাঁদ, নজরদারির ঘাটতি ও প্রশাসনিক গাফিলতিই মূল সমস্যা। গত বছর বনদফতরের একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে বান্ধবগড়ের মতো রিজার্ভে তদন্তের ত্রুটি, ভিডিওগ্রাফি ছাড়া ময়নাতদন্ত এবং দায়সারা ভাবে ‘প্রাণীর লড়াই’ বলে মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছিল।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরের বন্যপ্রাণ পাচারচক্রের মাথা ইয়াংচেন লাখুংপার গ্রেফতারিও নতুন করে আলো ফেলেছে সংগঠিত অপরাধের দিকে। যদিও বন প্রতিমন্ত্রী দিলীপ আহিরওয়ার দাবি করেছেন, প্রতিটি বাঘের মৃত্যু গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত করছে। তবু সংরক্ষণকর্মীদের বক্তব্য, কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই মৃত্যু-মিছিল থামবে না।