ভারতের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর’ ইন্দোরে দূষিত পানীয় জল খেয়ে মৃত অন্তত ৭ জন, অসুস্থ ৪০-এরও বেশি। ভগীরথপুরা এলাকায় জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের ছবি
শেষ আপডেট: 31 December 2025 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরে’র তকমা পাওয়া ইন্দোরে (Indore) ভয়ঙ্কর অবস্থা। দূষিত পানীয় জল খেয়ে মৃত্যু হল সাত জনের, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৪০ জনের বেশি। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩ বলা হলেও, বাস্তবে তা বেড়ে সাতে পৌঁছেছে বলে স্বীকার করেছেন ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব (Pushyamitra Bhargav)।
ইন্দোরের ভগীরথপুরা (Bhagirathpura) এলাকায় ২৪ ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করেই বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি বাসিন্দাকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, বাড়ির কল দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা জল আসতে শুরু করে, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ
ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব (Mohan Yadav) কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। তিন জন পুরসভার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক জন জোনাল অফিসার (Zonal Officer) এবং এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে (Assistant Engineer) সাসপেন্ড করেছে তারা, আর এক জন সাব-ইঞ্জিনিয়ারের (Sub-Engineer) পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে তারা। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অভিযোগ ছিল, শোনা হয়নি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দূষিত জল নিয়ে তাঁরা দিনের পর দিন প্রশাসনকে জানালেও কার্যত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক স্থানীয় যুবকের দাবি, প্রায় ছয় মাস ধরেই সমস্যাটি চলছিল। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কাজ না হওয়ায় তারা হাল ছেড়ে দেন। এরপর শিশু ও বৃদ্ধরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন।
কীভাবে জল দূষিত হল?
প্রাথমিক তদন্তে চরম গাফিলতির ছবি সামনে এসেছে। পুরসভার (Municipal Corporation) দাবি, ভগীরথপুরায় পানীয় জলের মূল পাইপলাইনটি একটি পাবলিক টয়লেটের (Public Toilet) নীচ দিয়ে গিয়েছে। সেই লাইনে লিকেজ থাকায় নর্দমার জল এই পানীয় জলের পাইপলাইনে ঢুকে পড়ে। এলাকায় একাধিক ভাঙা ডিস্ট্রিবিউশন লাইনও পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে দূষিত জল বাড়িতে পৌঁছয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২.৫ কোটি টাকা খরচে নতুন পাইপলাইন বসানোর টেন্ডার চার মাস আগে পাশ হয়েছে কিন্তু প্রকল্পটি কার্যকরই হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বহু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে (Anganwadi Workers) ঘরে ঘরে সমীক্ষার কাজে নামানো হয়েছে। তাঁদের অনেকেই নিজেরাও সংক্রমিত হয়েছেন। এক কর্মীর দাবি, তিনি নিজে ৪০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। আর এক জন জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার চিকিৎসায় ৪০ হাজার টাকার বেশি খরচ করেছে। অন্য এক কর্মীর সন্তান ও পুত্রবধূ হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসার খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
ক্লিনিকে উপচে পড়া ভিড়
ভগীরথপুরা এলাকায় সঞ্জীবনী ক্লিনিক (Sanjeevani Clinics) ও হাসপাতালে এখনও উপচে পড়ছে রোগীর ভিড়। জলবাহিত রোগের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ চিকিৎসা করাতে আসছেন। বহু পরিবার জানিয়েছে, একই বাড়ির একাধিক সদস্য অসুস্থ।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে ‘পরিচ্ছন্ন শহরে’র গর্বের আড়ালে এই বিপর্যয় ইন্দোর প্রশাসনের বড় ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে সাধারণ মানুষ।