পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করার ভারত-ইজরায়েলের গোপন অভিযান একেবারে শেষ মুহূর্তে রুখে দিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছিলেন, রাজি হননি।
শেষ আপডেট: 8 November 2025 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের পরমাণু বোমা তৈরির ‘কারখানা’ গুঁড়িয়ে দিতে চাননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। মার্কিন চর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন গুপ্তচর এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন। পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করার ভারত-ইজরায়েলের গোপন অভিযান একেবারে শেষ মুহূর্তে রুখে দিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী। সিআইএ-র প্রাক্তন চর রিচার্ড বারলো এই দাবি করে বলেন, একেবারে শেষ মুহূর্তে ইন্দিরা গান্ধীর এই অভিযান আটকে দেওয়া লজ্জার ঘটনা। এই অভিযান সম্পূর্ণ হলে এখনকার অনেক সমস্যার জন্মই হতো না, সব সমস্যা মিটে যেত বলে দাবি করেন বারলো।
এর আগে বিজেপির তরফেও একই দাবি করা হয়েছিল। একাংশ ইতিহাসবিদ বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী র-এর কাছে পাক্কা খবর ছিল যে, পাকিস্তানের কাহুতায় পরমাণু চুল্লি গড়েছে সেনাশাসকরা। এর সঙ্গে মার্কিন চর সংস্থার উসকানিতে ভারতকে এই অভিযানে মদত দিতে রাজি হয় ইজরায়েলি বাহিনী। সকলে মিলে তৈরি হয় একটি গোপন সমঝোতা। যার ফলে অত্যন্ত গোপনে ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর বোমাবর্ষণে ধ্বংস করে হবে ইউরেনিয়াম শোধনাগারের চুল্লি।
রিচার্ড বারলো সাক্ষাৎকারে বলেন, ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে ভারত-ইজরায়েলের এই অভিযান অনেক সমস্যা চিরকালের জন্য মিটিয়ে দিত। কিন্তু, তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছিলেন, রাজি হননি। তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে লজ্জার বলে মন্তব্য করেন বারলো। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন প্রাক্তন সিআইএ চর।
ইসলামাবাদের পরমাণু শক্তিধর হওয়া বন্ধ করতে মার্কিন ছক ছিল কাহুতা অভিযান। একথা জানিয়ে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিরস্ত্রীকরণ নীতি বিভাগে কাজ করা বারলো বলেন, তিনি এই পরিকল্পনার কথা চর মহলে শুনেছিলেন। যদিও নিজে এই পরিকল্পনা দলে সরাসরি কাজ করেননি।
তাঁর এই মন্তব্যের কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, আমেরিকা গত তিন দশক ধরে কোনও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেনি। অথচ, পাকিস্তান সহ চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া একের পর এক পরীক্ষা চালিয়ে গিয়েছে।
ইতিহাস বলে, ভারত-ইজরায়েলের এই গোপন অভিযানের মারাত্মক বিরোধী ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন। বিশেষত ইজরায়েল এর সঙ্গে যুক্ত থাকায়। কারণ, ইহুদি রাষ্ট্র এই ঘটনা ঘটালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিরোধী গুপ্তযুদ্ধ প্রকাশ্যে এসে পড়বে এই ভয় ছিল আমেরিকার। বারলো বলেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের উপর আমেরিকার মুখাপেক্ষী থাকার ফায়দা তুলেছিল ইসলামাবাদ।
প্রসঙ্গত, এই একই ধরনের কথা উত্থাপন করে কিছুকাল আগে অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কংগ্রেসকে তুলোধনা করেছিলেন। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভুল শিরোনামে এক এক্সবার্তায় বিশ্বশর্মা লিখেছিলেন, কীভাবে ভারতই পাকিস্তানকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র করে তুলতে সাহায্য করেছিল। তিনি লিখেছিলেন, র-এর কাছে পাক্কা খবর ছিল যে কাহুতায় পাকিস্তান পরমাণু বোমা বানাচ্ছে। ইজরায়েল ভারতকে সাহায্য করবে বলেও কথা দিয়েছিল। জামনগর বিমানঘাঁটি থেকে বিমান উড়বে বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছিল। কাহুতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর কিছু ঘটলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত ছিল। হিমন্তের দাবি, কিন্তু শেষ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে ধন্দে পড়ে গেলেন। রাজীব গান্ধী এই ছক ভেস্তে দিলেন এই বলে যে, কূটনীতি এবং বিদেশী চাপের কথা মাথায় রাখতে হবে।
এরও এক দশক পর ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালাল। যার ফলে ভারতকেও পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে খরচ বাড়াতে হল। পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের জুজু দেখিয়ে কারগিলের মহড়া যুদ্ধ, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিপনা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ পর্যন্ত পাকিস্তান বারবার পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে।