বৈঠকের পরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, শুধু ইন্ডিগো নয়, তদন্তের আওতায় আনা হবে ডিজিসিএ-কেও। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজিসিএ-র ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 December 2025 07:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমান পরিষেবায় বিপর্যয়ের (disruption in flights) নেপথ্যে প্রকৃত কারণ খুঁজে বার করতে (Root Cause Analysis After) এ বার পৃথক তদন্তের পথে হাঁটল ইন্ডিগো (IndiGo)। উড়ান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরিষেবায় বিভ্রাটের কারণ বিশ্লেষণের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে (IndiGo Appoints Aviation Expert) দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এই অনুসন্ধান শুরু করবে বিশেষজ্ঞ দল। তদন্ত শেষ হলে তারা ইন্ডিগোর বোর্ডের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে।
ইন্ডিগোর পরিষেবায় বিভ্রাটের ঘটনা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যাত্রীভোগান্তি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। উড়ান বাতিলের সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও নানা রকম সমস্যায় নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার ফের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র দফতরে তলব করা হয় ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সকে।
শুক্রবারও ডিজিসিএ গঠিত চার সদস্যের কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন পিটার। দেশের অন্যতম বৃহৎ উড়ান সংস্থার পরিষেবায় এত বড়সড় বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল দায়িত্ব। ঘটনাচক্রে, ঠিক একই দিনেই ইন্ডিগো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে পৃথক তদন্ত শুরু করার কথা ঘোষণা করল।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিভ্রাট ঘিরে ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর পরিষেবা মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে সংস্থা জানিয়েছে, বাতিল হওয়া উড়ানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ যাত্রীকে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এখনও ফেরত পাননি, তাঁদের টাকা আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁরা উড়ান বাতিলের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে ইন্ডিগো। টিকিটের টাকা ফেরতের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকার ভাউচারও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
এই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু ইন্ডিগোর সিইও-র সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, শুধু ইন্ডিগো নয়, তদন্তের আওতায় আনা হবে ডিজিসিএ-কেও। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজিসিএ-র ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইতিমধ্যেই ডিজিসিএ চার জন ফ্লাইট অপারেশনস ইনস্পেক্টর (এফওআই)-কে বরখাস্ত করেছে। জানা গিয়েছে, ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবার তদারকিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ওই আধিকারিকেরা। ফলে ইন্ডিগোর ভূমিকার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরাল হচ্ছে।