উড়ান নিয়ন্ত্রকের এই পদক্ষেপের দিনই ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবর্সকে দু’দিন ধরে টানা জেরা করতে ডেকেছে ডিজিসিএ-র চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

ইন্ডিগো বিমান
শেষ আপডেট: 12 December 2025 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিগোর ভয়াবহ পরিষেবা (Indigo Flight) বিপর্যয়ের জেরে শেষমেশ কঠোর পদক্ষেপ করল বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)। সংস্থার চারজন ফ্লাইট অপারেশন (Flight Operation Inspector) ইন্সপেক্টরকে হঠাৎ করেই বরখাস্ত করা হয়েছে। এঁরাই ছিলেন দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন ইন্ডিগোর (Indigo News) কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড তদারকির দায়িত্বে। যদিও কেন তাঁদের সরানো হল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ জানায়নি ডিজিসিএ।
উড়ান নিয়ন্ত্রকের এই পদক্ষেপের দিনই ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবর্সকে দু’দিন ধরে টানা জেরা করতে ডেকেছে ডিজিসিএ-র চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। মূল উদ্দেশ্য, বিপর্যয় সামাল দিতে এয়ারলাইনের (Indigo Airlines) বর্তমান প্রস্তুতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা।
গত সপ্তাহে এক দিনে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল (Indigo Flight Cancelled)। কয়েক লক্ষ যাত্রী বিমানবন্দরে (Indigo Flight Delay) ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে। দেশের বাজারে প্রায় ৬৫ শতাংশ শেয়ার থাকা ইন্ডিগো আচমকা স্তব্ধ। এমন পরিস্থিতির তদন্তেই তৈরি হয়েছে বিশেষ প্যানেল। সংস্থাটির ফ্লাইট বাতিলের মূল কারণ হিসাবে উঠে এসেছে পাইলট-ক্রুর ঘাটতি (Indigo News), যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) নিয়ম চালু হওয়ার পর।
ইন্ডিগোর সদর দফতরে বসে ডিজিসিএ এখন প্রতিদিন নজরদারি চালাচ্ছে, কত ফ্লাইট উড়ছে, কত বাতিল হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে কি না। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রতিদিনের রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোকে সাময়িকভাবে ফ্লাইট সংখ্যা (Flight Numbers) ১০ শতাংশ কমাতে বলেছে, যাতে সংস্থা ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে পারে।
অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলেও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে
গত ৫ ডিসেম্বর ১,০০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিলের পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইন্ডিগো প্রায় ১,৯৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। সময়ানুবর্তিতা (OTP), যা কয়েক দিন আগে একেবারে ৩০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, তা আবার ৯২ শতাংশের ওপরে উঠে এসেছে।
ইন্ডিগোর দাবি, নতুন FDTL বিধির কারণে রস্টার তৈরি করতে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সংস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবে সংকটকে বাড়িয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছিল, যাতে নতুন নিয়ম শিথিল করা হয়।