সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যেসব যাত্রীর বিমান উড়ানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগেই ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে ইন্ডিগো।

ইন্ডিগো
শেষ আপডেট: 11 December 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইন্ডিগো-বিপর্যয়ে (IndiGo Crisis) যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। হঠাৎ করেই প্রচুর সংখ্যায় বিমান বাতিল, ক্রু সদস্যদের ঘাটতি, ঘণ্টার পড় ঘণ্টা বিমানবন্দরেই আটকে যাত্রীরা- সব মিলিয়ে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এক সপ্তাহের মাথায় পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। জল গড়িয়েছে অনেকদূর। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু যাত্রীদের জন্য ১০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ (IndiGo vouchers) হিসেবে 'ট্র্যাভেল ভাউচার' ঘোষণা করল সংস্থা।
ইন্ডিগোর (IndiGo Crisis) তরফে জানানো হয়েছে, বিমান বাতিলের কারণে যে সকল যাত্রীরা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যদিও কাদের ‘গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে ধরা হবে এবং কীভাবে তাদের চিহ্নিত করা হবে, সেবিষয়ে কিছুই জানায়নি সংস্থা।
বিমান সংস্থার দাবি, যেসব বিমান বাতিল হয়েছে সেগুলির টিকিটের রিফান্ড ইতিমধ্যেই যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি যারা দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে আটকে পড়েছিলেন, অথবা বিশৃঙ্খলার কারণে অতিরিক্ত সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের জন্য আলাদা ভাবে দেওয়া হবে ১০ হাজার টাকার ট্রাভেল ভাউচার, যা আগামী ১২ মাসের মধ্যে যে কোনও ইন্ডিগো ফ্লাইটে (IndiGo Crisis) ব্যবহার করা যাবে।
ইন্ডিগো (IndiGo flight cancellations) একটি বিবৃতিতে বলেছে, “৩, ৪ এবং ৫ ডিসেম্বর কিছু যাত্রী দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে ছিলেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাঁদের জন্যই এই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ।” সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যেসব যাত্রীর বিমান উড়ানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগেই ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে ইন্ডিগো। নতুন ক্ষতিপূরণ তার বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে দেওয়া হবে।
সংস্থার দাবি, গত চার দিন ধরে তাদের সব পরিষেবা স্বাভাবিক চলছে। গত তিন দিনে একই দিনের কোনও বিমান বাতিল হয়নি। শুধু আবহাওয়া প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কয়েকটি বিমান বাতিল করতে হয়েছে, তা ছাড়া সব পরিষেবা চলছে ঠিকঠাক।
ইন্ডিগো ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এখন প্রতিদিন ১,৯০০-র বেশি বিমান চালাচ্ছে এবং ১৩৮টি গন্তব্যে পরিষেবা দিচ্ছে। নির্ধারিত সময় উড়ান এবং পরিষেবার মানও ক্রমশ উন্নত হচ্ছে বলে দাবি সংস্থার।
ইন্ডিগো বিপর্যয়ে হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। একাধিক নির্দেশিকার পাশাপাশি বিমানের সংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা নিয়ম মানতে গিয়ে ইন্ডিগোর প্রস্তুতিহীনতা ও ক্রু-সংকট পরিস্থিতি যে বিপর্যয় তৈরি করেছে— তার পরই এই সিদ্ধান্ত।
ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বড় বিমানসংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম ইন্ডিগো (IndiGo Airlines) প্রতিদিন সাধারণত ২ হাজার ৩০০টির মতো উড়ান চালায়। তবে গত সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার কারণে শনিবার সেই সংখ্যা নেমে যায় ১ হাজার ৫০০-তে, রবিবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৫০। এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, কর্মীসংকট। ডিজিসিএর নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাইলটদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে গিয়ে উড়ান পরিচালনায় বিপর্যয় দেখা দেয়।
এই সংকটের কারণ জানতে চেয়ে ইন্ডিগোকে শোকজ করেছিল দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA showcause IndiGo) (DGCA)। তবে সংস্থার তরফে সন্তোষজনক জবাবা না পাওয়ায় ডেকে পাঠানো হয় সিইও পিটার এলবারস্কে। আজই জরুরি নথি-সহ হাজিরা দেওয়ার কথা তাঁর।