শুক্রবার রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সেই জবাবেই উঠে এসেছে রেলের প্রকল্প রূপায়ণে দেরি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আর্থিক ক্ষতির একের পর এক চিত্র।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 February 2026 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় সুদের বোঝায় প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা। আবার কম দামের বরাত বাতিল করে অন্য সংস্থাকে কাজ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৪০০ কোটিরও বেশি। রেলের একাধিক প্রকল্পে বিপুল আর্থিক গরমিলের ইঙ্গিত মিলল রাজ্যসভায় পেশ করা রেলমন্ত্রকের লিখিত জবাবেই (Indications of corruption in the railway work)। এমনকি একটি প্রকল্পে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয় যে, সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশন (সিভিসি)-কে হস্তক্ষেপ করতে হয়—এ কথাও স্বীকার করেছে রেলমন্ত্রক।
শুক্রবার রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সেই জবাবেই উঠে এসেছে রেলের প্রকল্প রূপায়ণে দেরি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আর্থিক ক্ষতির একের পর এক চিত্র।
রেলমন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মুম্বইয়ের বান্দ্রা ইস্টে রেলের একটি জমি বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যে রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আরএলডিএ)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, যাত্রীভাড়া না বাড়িয়ে বিকল্প পথে রেলের আয় বাড়ানো। কিন্তু ডেভেলপার না মেলায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, ইরকন ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফিনান্স কর্পোরেশন (আইআরএফসি)-র সঙ্গে চুক্তি করবে আরএলডিএ এবং সেখান থেকেই অর্থের সংস্থান হবে। তবে করোনা মহামারি ও অন্যান্য সমস্যায় প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি। তার ফলেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আইআরএফসিকে প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হয়েছে আরএলডিএ-কে।
এখানেই শেষ নয়। রেলের অন্যতম উচ্চপ্রোফাইল প্রকল্প উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল লাইন (ইউএসবিআরএল) নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রকল্পে সিভিসি-র হস্তক্ষেপের কথাও সংসদে জানানো হয়েছে। রেলমন্ত্রকের দাবি, প্রকল্পটির দায়িত্বে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইরকন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি টানেল নির্মাণের জন্য ৮৮৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয় এক সংস্থাকে। কিন্তু কাজের গতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ২০১৭ সালের এপ্রিলে সেই বরাত বাতিল করা হয়।
পরবর্তী সময়ে, ২০১৭ সালের অগস্টে বাকি কাজ শেষ করতে অন্য একটি সংস্থাকে ১ হাজার ১১০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয়। রেলমন্ত্রীর লিখিত জবাবেই জানানো হয়েছে, ২০১২ সালে বরাত বাতিলের সময় বাকি কাজ শেষ করতে খরচ হত ৬৭৬ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর পরে বাজারদর বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে বরাতমূল্য বেড়েছে বলে দাবি করা হলেও, হিসেব বলছে—এই প্রকল্পেই অতিরিক্ত প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রেলের একাধিক প্রকল্পে সময়সীমা লঙ্ঘন, বরাত বাতিল ও পুনর্বণ্টনের জেরে যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়েই এবার সংসদে নতুন করে বিতর্কের ঝড়। বিরোধীদের মতে, এই হিসেব শুধু গরমিল নয়, বরং গভীর দুর্নীতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।