বিদেশ মন্ত্রকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় (Tehran University), শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে দু'হাজারের বেশি মেডিক্যাল পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিলেন।

ইরান থেকে দেশে ফিরেছে বহু ভারতীয় পড়ুয়া
শেষ আপডেট: 23 June 2025 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত (Iran-Israel Conflicts) বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মহল তৈরি করে দিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি ফের একটি প্রশ্ন জাগিয়ে দিল। কেন এতসংখ্যায় ভারতীয় পড়ুয়া ডাক্তারি (Indian Medical Students) পড়তে বিদেশে যান? বিশেষ করে কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের (Kashmiri Students) একটা বড় অংশ কেন ইরানকেই (Iran) বেছে নেয়?
গত সপ্তাহেই ইরান থেকে প্রায় এক হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে ইরান (Iran) থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে অর্ধেক-ই ছিলেন কাশ্মীরের (Kashmiri) বাসিন্দা। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় (Tehran University), শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে দু'হাজারের বেশি মেডিক্যাল পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিলেন।
ভারতে মেডিক্যাল আসন বাড়লেও কেন বিদেশের প্রতি ঝোঁক?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতে এমবিবিএস (MBBS) আসন ছিল মাত্র ৫১ হাজার, ২০২৪-এ সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১.১৮ লক্ষ। তবু এত ভারতীয় পড়ুয়া বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পড়ছেন কেন? কারণ দুটি- প্রতিযোগিতা ও খরচ।
কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়াদের মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকজনই সরকারি কলেজে জায়গা পান। কারণ মোট আসনের অর্ধেকেরও কম থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে। বাকি আসনগুলি মূলত বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের (Private Medical College), যেখানে ফি কয়েক লক্ষ থেকে কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
এই আর্থিক চাপে পড়েই বহু পড়ুয়া বিদেশমুখী হন, যেখানে একই ডিগ্রি পাওয়া যায় তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে। অনেক দেশে মেডিক্যাল পড়াশোনার খরচ ভারতে বেসরকারি কলেজের দশভাগের এক ভাগ।
বিদেশ থেকে মেডিক্যাল ডিগ্রি অর্জন করলেও ভারতে প্র্যাকটিস করতে হলে ফরেন মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট এক্সাম (FMGE) নামের একটি কঠিন যোগ্যতার পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। এই পরীক্ষার পাসের হার অত্যন্ত কম- ২০২৪ সালে মাত্র ২৫.৮ শতাংশ প্রার্থী পাশ করেছেন। আগের বছর এই হার ছিল মাত্র ১৬.৬৫ শতাংশ।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় মেডিক্যাল বোর্ডের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. পবনিন্দ্র লাল বলেন, 'বিদেশে বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত দুই ধরণের কোর্স থাকে- একটি স্থানীয় ডাক্তারদের জন্য, অন্যটি বিদেশিদের জন্য। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি কোর্স করে সেই দেশেই চিকিৎসা করার যোগ্যতা থাকে না।'
এ কারণেই জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC) নিয়ম করেছে, বিদেশ থেকে ডাক্তারি পড়ে আসা যে কোনও পড়ুয়াকে এমন কোর্স করতে হবে যাতে তিনি সেই দেশেও চিকিৎসা করার অনুমতি পান। কোর্সটির সময়সীমা ৫৪ মাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স শেষ করার পর সেখানেই ইন্টার্ন হিসেবে কিছু মাস কাজ করতে হবে।
সবচেয়ে বেশি কাশ্মীরি পড়ুয়ারাই কেন ইরানে যান?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অর্থনৈতিক নয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকও। কাশ্মীর আর ইরানের সম্পর্ক বহু পুরনো। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্সিয়ান স্কলার অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হুসেন জানিয়েছেন, 'কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত ‘ইরান-এ-সগীর’ বা ছোট ইরান নামে। ১৩শ শতকে ইরান থেকে মীর সাইয়েদ আলি হামাদানি কাশ্মীরে আসেন এবং প্রায় ২০০ সৈয়দ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তাঁরা কাশ্মীরে কার্পেট বোনা, প্যাপিয়ের মাশে, কিশমিশ, জাফরানের মতো নানা হস্তশিল্প ও কৃষিজ পণ্যও নিয়ে আসেন।'