ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বরের। থানের ওয়াগলে এস্টেট এলাকার এক ফ্ল্যাটে শারদা শুক্লাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় শোয়া অবস্থাতেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। খবর পেয়ে ছুটে আসেন তাঁর এক ছেলে।

ছবি-এআই
শেষ আপডেট: 23 June 2025 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী শয্যাশায়ী, একমাত্র ভরসা ছিলেন স্বামী। অথচ সেই স্বামী-ই ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করলেন। 'পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর' খুন, আদালতে দোষী প্রমাণিত প্রৌঢ়। মহারাষ্ট্রের থানের একটি আদালত ওই ৭১ বছর বয়সি ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে (Maharashtra Man Jailed For Murdering Bedridden Wife)।
থানে জেলা দায়রা আদালতের বিচারক এই রায় দেন। অভিযুক্ত শোভনাথ রাজেশ্বর শুক্লাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডে দয়া দেখানোর কোনও জায়গা নেই। বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ন্যায়বিচারের খাতিরে করুণা দেখানো যায় না।'
কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বরের। থানের ওয়াগলে এস্টেট এলাকার এক ফ্ল্যাটে শারদা শুক্লাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় শোয়া অবস্থাতেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। খবর পেয়ে ছুটে আসেন তাঁর এক ছেলে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, গলায় একটি সাদা মলম লাগানো রয়েছে, যেটির তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাঁর ছেলে সন্দেহ হওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধ (Asphyxia) হয়েই মৃত্যু হয়েছিল শারদার।
পুলিশ সূত্রে খবর, শারদা ও শোভনাথ- উভয়পক্ষেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম পক্ষের তিন সন্তান ছিল বৃদ্ধার। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের দায়িত্ব নেন শারদাই। তারমধ্যেই শোভনাথের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। আলাপ হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই দু'জনে বিয়ে করে নেন। তবে ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।
বিবাদের অন্যতম কারণ ছিল সম্পত্তি। শারদার প্রথম স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি (Property Sale) করে সেই টাকায় একটি ঘর তৈরি করা হয়েছিল। শারদা সেটি তাঁর ছোট ছেলেকে দিতে চাইছিলেন। কিন্তু শোভনাথ চাইতেন সেই ঘর তাঁর নিজের ছেলে অশোকের নামে হোক। এই নিয়ে প্রায়ই অশান্তি হত।
২০১৯ সালের জুন মাসে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান এবং সম্পূর্ণভাবে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন শারদা। এরপর থেকেই তিনি স্বামীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
শারদার দুই ছেলে আদালতে জানান, শোভনাথ প্রায়ই তাঁদের মায়ের অসুস্থতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতেন। তিনি একাধিকবার বলেছিলেন, স্ত্রীকে শেষ করে দেবেন। ঘটনার পরেও তিনি গলার দাগকে মঙ্গলসূত্রের দাগ বলে চালানোর চেষ্টা করেন। আদালত শেষ পর্যন্ত দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়।