কেতন বলেন, হঠাৎ করেই চারপাশ থমকে যায়। বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়, যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। তাঁরা বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। হোটেলটি ছিল বান্দার আব্বাস বন্দরের খুব কাছেই, যা ইরানের নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।

পরিবারের সঙ্গে কেতন মেহতা
শেষ আপডেট: 1 April 2026 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের জেলে (Iran War Prison) কাটানো পঞ্চাশ দিন, তারপর হোটেলে সামান্য স্বস্তি। কিন্তু সেই স্বস্তিও স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধের আগুন ঘেরা অবস্থায় আরও পঁচিশ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরলেন এক ভারতীয় (Indian Citizen In Iran)। তাঁর অভিজ্ঞতা যেন রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো।
গাজিয়াবাদের বাসিন্দা কেতন মেহতা দেশে ফিরে সেই ভয়াবহ সময়ের (Iran War) কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, জেল থেকে বেরিয়ে হোটেলে ওঠার পরও তাঁরা বুঝতে পারেননি যে পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁরা হোটেলে ওঠেন, আর ঠিক পরদিনই দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি আচমকাই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সবকিছু মুহূর্তে বদলে যায়।
কেতন বলেন, হঠাৎ করেই চারপাশ থমকে যায়। বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায়, যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। তাঁরা বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। হোটেলটি ছিল বান্দার আব্বাস বন্দরের খুব কাছেই, যা ইরানের নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেই এলাকাই হয়ে ওঠে প্রধান আক্রমণের লক্ষ্য।
তিনি জানান, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাঁদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন হোটেল থেকে বাইরে না বেরোন। দিন কেটে যাচ্ছিল আতঙ্কের মধ্যে। প্রতিদিনই বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ কানে আসত। জানলা খুলে তাকালে চোখের সামনে দেখা যেত আকাশ থেকে আগুন ঝরে পড়ছে।
কেতন জানান, প্রতিদিন প্রায় শতাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যেত। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁদের ফেরার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সেটাও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, যাত্রাপথেও চলছিল বোমাবর্ষণ।
শেষ পর্যন্ত প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার বাসযাত্রা করে তাঁরা আর্মেনিয়ার সীমান্তে পৌঁছন। সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে লেগেছিল প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা। পাহাড়ি রাস্তায় চলার সময় চারপাশে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। বাস কেঁপে উঠছিল বারবার। সেই আতঙ্কের মধ্যেই কোনওরকমে সীমান্তে পৌঁছতে সক্ষম হন তাঁরা। এই কঠিন সময়ে একমাত্র ভরসা ছিল ভারতীয় দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ। তাঁদের পরামর্শ ও নির্দেশেই শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফেরা সম্ভব হয়েছে বলে জানান কেতন।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে আরও একটি বড় প্রেক্ষাপট। গত ৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে ইরানের প্রশাসন। অভিযোগ ছিল, জাহাজটিতে অবৈধ জ্বালানি বহন করা হচ্ছিল। যদিও জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনায় জাহাজের দশজন ভারতীয় নাবিককে গ্রেফতার করে ইরানের জেলে রাখা হয়। বাকিরা জাহাজেই ছিলেন। পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, আটক নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বন্দিদশা থেকে যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া - এই দীর্ঘ সময় যেন এক অবিরাম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের কাহিনি। কেতন মেহতার অভিজ্ঞতা সেই ভয়াবহ বাস্তবতারই এক স্পষ্ট প্রতিফলন।