ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে দুবাইয়ের হাসপাতালে আটকে ভারতীয় বৃদ্ধা। প্রতিদিন বাড়ছে চিকিৎসার বিল, দেশে ফিরিয়ে আনতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য দরকার প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। সাহায্যের আর্জি সরকারের কাছে।

বৃদ্ধার পরিবারের আর্জি, তাঁদের ফেরার ব্যবস্থা করা হোক
শেষ আপডেট: 14 March 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের (Middle East Conflict) প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিপাকে পড়েছেন দুবাইয়ে (Dubai) থাকা এক ভারতীয় পরিবার। মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা বিল গুনতে হচ্ছে, আর দেশে ফিরিয়ে আনতেও এখন দরকার প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
দুবাইয়ে গত আট বছর ধরে বসবাস করছেন তিলক্কুমার জলাথু অনিরুথরাজ (Thilakkumar Jalathu Aniruthraraj) এবং তাঁর স্ত্রী শামিনি রমেশ (Shaamini Ramesh)। ভাল জীবনের আশায় তাঁরা সেখানে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন তাঁদের সবচেয়ে বড় লড়াই—আইসিইউতে (ICU) ভর্তি তিলক্কুমারের মাকে বাঁচানো।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলক্কুমারের মা কিছু দিন আগে ছেলের কাছে দুবাইয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎই তাঁর শরীরে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (Bacterial Infection) ধরা পড়ে। তারপর থেকেই তিনি ভেন্টিলেটর (Ventilator) সাপোর্টে রয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪০ দিন কেটে গিয়েছে আইসিইউতে।
তিলক্কুমার জানিয়েছেন, অন্তত আরও দু’মাস ভেন্টিলেটরে থাকতে হবে তাঁর মাকে। কিন্তু সমস্যার সবচেয়ে বড় জায়গা অর্থ। হাসপাতালের প্রতিদিনের বিল প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। স্ক্যান (Scan) বা বিশেষ চিকিৎসার খরচ ধরলে তা আরও বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত মোট বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৫ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে আরও প্রায় ৪ লক্ষ টাকা করে খরচ বাড়ছে।
একজন সাধারণ চাকুরিজীবীর পক্ষে এই বিপুল খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে তিলক্কুমার ও শামিনি সিদ্ধান্ত নেন, মাকে ভারতে (India) ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা করানো হবে। কারণ দেশে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সস্তা।
চিকিৎসকেরাও তাঁকে ৪ মার্চ একটি কমার্শিয়াল মেডিক্যাল এসকর্ট ফ্লাইটে (Commercial Medical Escort Flight) নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই ফ্লাইটের খরচ ছিল প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সেই উড়ান বাতিল হয়ে যায়।
এখন একমাত্র ভরসা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স (Air Ambulance)। কিন্তু সংঘাতের জেরে সেই খরচও আকাশছোঁয়া। আগে যেখানে তুলনামূলক কম খরচ ছিল, এখন সেখানে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা লাগবে। তিলক্কুমারের কথায়, “আমরা সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। এত টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।”
তাঁরা হাসপাতালের কাছেও কিছু ছাড় (Discount) পাওয়ার আশায় আছেন। তবে তা হলেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বেশি কমবে না বলেই অনুমান।
এদিকে দুবাইয়ের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার (Charity Organisation) কাছেও সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু আর একটি বড় সমস্যা হল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের স্লট পাওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিষেবা খুবই সীমিত। শামিনির কথায়, “আমরা এত বছর দুবাইয়ে আছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হইনি। মানসিক এবং আর্থিক—দু’দিক থেকেই এটা সামলানো খুব কঠিন।”