একটা ব্যাট, একটা বল, আর কয়েকটা হাসিমুখ অনেক কিছু বদলে দিতে পারে! কাশ্মীরের (Kashmir) সোপিয়ানে এখন শুধু গুলির আওয়াজ নয়, বেজে উঠছে ব্যাট-বলের (Cricket) টক্করও!

গ্রাফিক্স-দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 18 August 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ব্যাট, একটা বল, আর কয়েকটা হাসিমুখ অনেক কিছু বদলে দিতে পারে! কিংবা বলা ভাল, কাশ্মীরের (Kashmir) সোপিয়ানে এখন শুধু গুলির আওয়াজ নয়, বেজে উঠছে ব্যাট-বলের (Cricket) টক্করও!
সোপিয়ান থেকে পহেলগামের দূরত্ব মেরে কেটে ৭০ কিলোমিটার। গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিদের নির্মম হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন নিরীহ পর্যটক। তারপর থেকেই আতঙ্কে সমগ্র কাশ্মীর থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন পর্যটকরা, উপত্যকায় নেমে এসেছিল শ্মশানের নীরবতা।
The Indian Army in Shopian Kashmir, playing cricket with the locals!
The bonhomie between the Awaam and the Jawan is strengthening in Kashmir! These scenes were once unimaginable but now the youth understand their contribution in empowering them! pic.twitter.com/C5JShjWRLe— Fatima Dar (@FatimaDar_jk) August 17, 2025
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাশ্মীর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। সবুজের ঘাসে আবার ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। তারই একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে সোশ্যাল মাধ্যমে। যেখানে ভারতীয় সেনার ৪৪ রাষ্ট্রিয় রাইফেলস-এর এক অফিসার (Indian Army Officer) ব্যাট হাতে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে জমিয়ে ক্রিকেট খেলছেন।
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড় ঘেরা মাঠে এক সেনা অফিসার পেসারকে মোকাবিলা করছেন, তারপর এক ঝাঁজালো শটে বল উড়ে গেল মাঠের বাইরে। মুহূর্তেই চিৎকার করে উঠল ভিড়। এককালের সংঘাতের ভূমি আজ যেন খেলার মাঠে রূপান্তরিত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও ঘিরে সামনে এসেছে নেটিজেনদের একাধিক প্রতিক্রিয়া। একজন লিখেছেন, 'দেখে ভাল লাগছে, ২২ এপ্রিলের নির্মম ঘটনার পর এ ছবি ভাবাই যেত না’!
আর এক নেট নাগরিকের কথায়, “কাশ্মীরের সোপিয়ানে সেনা আর স্থানীয়দের একসঙ্গে ক্রিকেট খেলতে দেখা, ২২ এপ্রিলের ঘটনার পর এ ছবি ছিল অকল্পনীয়। আজকের কাশ্মীর জানে, ভবিষ্যৎ গড়তে হলে হাতে তুলে নিতে হবে ব্যাট, ছেড়ে দিতে হবে বন্দুক।”
জানা যাচ্ছে, এটাই প্রথম নয়। গত মাসেই ভারতীয় সেনা শুরু করেছে চিনার প্রিমিয়ার লিগ-এর একাদশ সংস্করণ। বারামুল্লার বিপিন রাওয়ত স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে উপত্যকার ৬৪টি দল। লক্ষ্য একটাই—কাশ্মীরি যুবকদের প্রতিভাকে সামনে আনা, আর জঙ্গিবাদের পরিবর্তে খেলাকে জীবনের সঙ্গী করে তোলা।
২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার দগদগে ক্ষত কাশ্মীরবাসীর মনে এখনও টাটকা। তবে সেই ঘটনার ঠিক চার মাসের মাথায় সেনা ও সাধারণ মানুষের এই হৃদ্যতা যেন প্রমাণ করছে, আতঙ্ক অতীত, ধীরে ধীরে শান্তির পরিবেশে ফিরছে উপত্যকায়।