
ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ।
শেষ আপডেট: 22 July 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ (Gita Gopinath) আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF) থেকে পদত্যাগ করে ফের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Harvard University) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দিলেন। তিনি ছিলেন আইএমএফের প্রথম ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর। গীতা গোপীনাথ আইএমএফের ইতিহাসে প্রথম মহিলা মুখ্য অর্থনীতিবিদ ছিলেন। এক বিবৃতিতে গীতা জানিয়েছেন, প্রায় ৭ বছর আইএমএফে কাজ করার পর আমি ফের আমরা পুরনো জায়গা, যেখানে আমার শিকড় রয়েছে, সেই শিক্ষা জগতে ফিরে যাচ্ছি।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গোপীনাথ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। তিনি আরও লিখেছেন, আইএমএফের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত সুসময় কাটানোর জন্য তিনি সংস্থার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন। সংস্থার প্রথম মুখ্য অর্থনীতিবিদ ও পরে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হয়েছিলেন গীতা গোপীনাথ। আইএমএফের বেনজির চ্যালেঞ্জের সময়ে তাঁর কাজ করার সুযোগকে তিনি জীবনে পাওয়া একমাত্র সম্পদ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এখন আমি ফের আবার আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ম্যাক্রোইকনমি নিয়ে গবেষণার কাজ করতে পারব। পরবর্তী প্রজন্মের অর্থনীতিবিদ তৈরির কারিগর হওয়ার সুযোগ মিলবে।
গীতা গোপীনাথ কে?
১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্ম। কেরলের কান্নুরের মালয়ালি হিন্দু নায়ার পরিবারের মেয়ে গীতা। ভারতের বিশিষ্ট কমিউনিস্ট নেতা একে গোপালনের আত্মীয় তাঁর পরিবার। গীতার বাবা-মায়ের নাম টিভি গোপীনাথ ও ভিসি বিজয়লক্ষ্মী। গীতা শুরুতে মহিশূরের নির্মলা কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ ফর উইমেন থেকে স্নাতক এবং দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিকস থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।
এরপর ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফের এমএ করেন এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। ২০০১ সালে গীতা শিকাগোর বুথ স্কুল অফ বিজনেস-এ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৫ সালে যোগ দেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখানে তিনি কাজ করেন ২০২২ সাল পর্যন্ত। গোপীনাথ আইএমএফে মুখ্য অর্থনীতিবিদ হিসেবে যোগ দেন ২০১৯ সালে এবং ২০২২ সালে প্রথম মহিলা ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হন। গীতা গোপীনাথ তাঁর দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিকসের সহপাঠী ইকবাল সিং ঢালিওয়ালকে বিয়ে করেন। তাঁদের রোহিল (জন্ম ২০০২) নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।