এক্সপো প্রাঙ্গণে থাকবে ৩০০-রও বেশি বাছাই করা প্রদর্শনী প্যাভিলিয়ন ও লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন। গোটা আয়োজন সাজানো হয়েছে তিনটি মূল ভাবনাকে সামনে রেখে - পিপল, প্ল্যানেট ও প্রগ্রেস। পাশাপাশি ৬০০-রও বেশি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ এবং ১৩টি দেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ছবি তুলে ধরবে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 16 February 2026 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi) সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স ইমপ্যাক্ট সামিট (Artificial Intelligence Impact Summit 2026)। দায়িত্বশীল এবং স্থিতিশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্মাণে বৈশ্বিক আলোচনার এই মঞ্চে অংশ নেবেন বিশ্বের প্রযুক্তি, নীতি ও গবেষণা ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।
এদিন বিকেলে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রাজধানীর ভারত মণ্ডপম (Bharat Mandapam)-এ উদ্বোধন করবেন ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো (India AI Impact Expo 2026)-এর। এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে সামিটের পাশাপাশি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব প্রয়োগের একটি জাতীয় প্রদর্শনী তুলে ধরা হবে।
এক্সপো প্রাঙ্গণে থাকবে ৩০০-রও বেশি বাছাই করা প্রদর্শনী প্যাভিলিয়ন ও লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন। গোটা আয়োজন সাজানো হয়েছে তিনটি মূল ভাবনাকে সামনে রেখে - পিপল, প্ল্যানেট ও প্রগ্রেস। পাশাপাশি ৬০০-রও বেশি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ এবং ১৩টি দেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ছবি তুলে ধরবে। প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাঙ্গন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার - সবাই মিলেই তৈরি হবে এক বৈশ্বিক প্রযুক্তি মঞ্চ।
সামিটকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লিখেছেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ভারতে আসছেন, এ গর্বের বিষয়। তাঁর কথায়, এটি দেশের যুবসমাজের সম্ভাবনা ও সক্ষমতার প্রতিফলন এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ। সামিটের মূল মন্ত্র ঘোষণা করে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’, অর্থাৎ মানবকল্যাণে প্রযুক্তির প্রয়োগই লক্ষ্য।

প্রথম দিনের সূচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে সড়ক নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। পরিবহণ মন্ত্রক, আইআইটি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন কীভাবে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ধরণ চিহ্নিত করে ঝুঁকি আগাম আন্দাজ করা যায়। ড্রাইভার প্রশিক্ষণ, নিরাপদ চলাচল এবং হাইপারলোকাল ডেটা মডেল তৈরির ক্ষেত্রেও এআইয়ের ভূমিকা তুলে ধরা হবে।
শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও থাকবে নেতৃত্বস্তরের আলোচনা। এআই কীভাবে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের ধারা বদলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতের দক্ষতার সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করছে - তা বিশ্লেষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে আলাদা অধিবেশন হবে। মামলার তথ্য বিশ্লেষণ, কেস ম্যানেজমেন্ট, ভার্চুয়াল কোর্ট এবং দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা, সবই থাকবে আলোচনায়।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এআই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বিশেষ পর্ব নির্ধারিত হয়েছে। নানা দেশে প্রযুক্তি প্রয়োগে সামাজিক রীতিনীতির গুরুত্ব কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও হবে আলোচনা।
কৃষিক্ষেত্রেও এআইয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘স্মার্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট অ্যাগ্রিকালচার’ শীর্ষক অধিবেশন আয়োজিত হয়েছে। গবেষণা থেকে বাস্তব প্রয়োগ- টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষির পথে প্রযুক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে সেখানে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, গ্লোবাল সাউথে এই সিরিজের প্রথম বৈশ্বিক এআই সম্মেলন আয়োজন করছে ভারত। প্যারিস, বার্লিন, অসলো, নিউ ইয়র্ক, জেনিভা, ব্যাঙ্কক ও টোকিও-সহ বিভিন্ন শহরে একাধিক জনপরামর্শ ও আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর এই সামিটের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ‘পিপল, প্ল্যানেট, প্রগ্রেস’ - এই তিন সূত্রকে সামনে রেখেই মানবকেন্দ্রিক ও পরিবেশ-সচেতন প্রযুক্তি ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।