বিহারে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-য় (Rojgar Yojana) আরও ২৫ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) সোমবার ১০ হাজার টাকা করে ঢুকল।

নীতীশ কুমার
শেষ আপডেট: 16 February 2026 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-য় (Rojgar Yojana) আরও ২৫ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) সোমবার ১০ হাজার টাকা করে ঢুকল। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) দফতরের দাবি, এ দিনই এই খাতে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে অর্থ।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন (Bihar Assembly Election) হয়েছিল। তার আগে গত সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। নির্বাচনের আগে নীতীশ সরকার ঘোষণা করেছিল, রাজ্যের প্রত্যেক পরিবারের এক জন মহিলাকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ছোট ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিহারে ১ কোটি ৮১ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন।
গত মাসে নীতীশ কুমার আরও ঘোষণা করেন, যাঁরা এই অর্থ ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করবেন, তাঁদের অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রথম ছ’মাসের কাজের অগ্রগতি এবং লাভের হিসেব খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে ওই অর্থ দেওয়া হবে। ব্যবসা ভাল চললে ভবিষ্যতে আরও আর্থিক সহায়তার কথাও ভাবা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কম হয়নি। ভোটের আগে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল, আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। জন সুরজ দলের প্রধান প্রশান্ত কিশোর প্রকাশ্যে বলেন, এ ভাবে ভোট ‘কেনা’ হচ্ছে। অনেকের মতে, এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ছায়া স্পষ্ট।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, মহিলাদের এই সরাসরি আর্থিক সহায়তাই বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
সমালোচনা সত্ত্বেও নীতীশ সরকারের দাবি, এটি নিছক অনুদান নয়, মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ।
এদিকে, ভোটমুখী বাংলায় বেকার ভাতার ব্যবস্থা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাধ্যমিক পাশ করা পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীরা 'যুবসাথী' প্রকল্পের আওতায় আসবেন। বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। একটানা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে কেউ চাকরি পেয়ে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উচ্চশিক্ষার জন্য যাঁরা রাজ্য সরকার বা অন্য কোনও সংস্থার স্কলারশিপ পান, তাঁরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন না। অর্থাৎ পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ না পাওয়া যুবক-যুবতীদের জন্যও এই ভাতা চালু থাকবে। রাজ্য বাজেটে জানানো হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বড় অঙ্ক।