রেলগেটের নিরাপত্তায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডিএসপি বারবার ঘোষণা করেন যে মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রাপথে কোনওভাবেই গেট নামানো যাবে না।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 January 2026 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Bihar CM Convoy) কনভয় যাতে নির্বিঘ্নে তার গন্তব্যস্থলে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শনিবার সমষ্টিপুর রেল স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। কর্পুরি ঠাকুরের ১০২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কর্পুরি গ্রামে পৌঁছনোর কারণে রেলগেট খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় (train delays)। এতে বিপাকে পড়েন বহু যাত্রী।
জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর কর্পুরি গ্রামে পৌঁছনোর পথে রেলগেট যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কনভয়ের যাতায়াতের সময় কোনও অবস্থাতেই গেট নামানো যাবে না (Bihar rail gate open)। তার ফলে সমষ্টিপুর-মুজফফরপুর রেল সেকশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বৈশালী এক্সপ্রেসের ওপর (Vaishali Express halted)। ললিতগ্রাম-নয়াদিল্লি বৈশালী এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ২১ মিনিটে সমষ্টিপুর স্টেশনে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা- ১০টা ২১ থেকে ১১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে আটকে থাকে। এছাড়া ১৪৬৭৩ শহিদ এক্সপ্রেস প্রায় ২৫ মিনিট দেরি করে এবং ১৮১৮১ টাটা–ছাপরা এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট থেমে থাকে। আরও বেশ কয়েকটি ট্রেনও প্ল্যাটফর্ম না পাওয়ায় পরিষেবায় দেরি হচ্ছিল।
রেলগেটের নিরাপত্তায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডিএসপি বারবার ঘোষণা করেন যে মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রাপথে কোনওভাবেই গেট নামানো যাবে না। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটের পর থেকে রেলগেট বন্ধ না করার নির্দেশ কার্যকর হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার খবর পাওয়ার পর প্রশাসন নিশ্চিত করে যে গেট খোলা থাকবে।
প্রায় ১০টা ৫৬ মিনিটে নীতীশ কুমারের (Bihar CM Nitish Kumar) কনভয় কর্পূরি ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্যদান করে ফিরে যাওয়ার পরই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রায় ৩৭ মিনিট রেলগেট খোলা ছিল, যার ফলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়।
এই ঘটনায় বহু যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন (Passenger inconvenience)। তাঁদের অভিযোগ, আগে থেকে কোনও ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে ট্রেন থামিয়ে দেওয়ায় প্রবল অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। ট্রেনের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ায় অনেকেরই গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হয়। প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।