২০১৯ সালের মে মাসের পর এই প্রথম ইরান থেকে তেল কিনল ভারত। তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের থেকে তেল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল দিল্লি।

আফরাম্যাক্স ভেসেল ‘পিং শুন’
শেষ আপডেট: 8 April 2026 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছর পর ফের ভারতের বন্দরে নোঙর করতে চলেছে ইরানি তেলবাহী জাহাজ। ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা আর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল কাটিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর অবশেষে আসছে এই জাহাজ। গত সপ্তাহেই আমেরিকার তরফে ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে ভারত সরাসরি তেহরান থেকে অশোধিত তেল আমদানির পথে হাঁটে।
শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রের খবর, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) ইরানের থেকে এই তেল কিনেছে। 'জায়া' (Jaya) নামক একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ (VLCC) ইরানের কার্গো নিয়ে ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। লজিস্টিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই সেটি বন্দরে পৌঁছাতে পারে।
২০১৯ সালের মে মাসের পর এই প্রথম ইরান থেকে তেল কিনল ভারত। তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের থেকে তেল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমেরিকার ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই পুরনো বন্ধুর দিকে হাত বাড়ায় ভারত।
ইরানি তেল আমদানি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে টানটান নাটক চলে সমুদ্রপথে। এর আগে 'পিঙ শুন' (Ping Shun) নামের এই একটি জাহাজ ৬ লক্ষ ব্যারেল ইরানি তেল নিয়ে গুজরাটের ভাদিনার বন্দরের দিকে আসছিল। কিন্তু মাঝপথেই জাহাজটি গতিপথ বদলে চিনের দিকে রওনা দেয়। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। বিশেষজ্ঞ মহলে গুঞ্জন শুরু হয়, সম্ভবত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনও সমস্যার কারণেই জাহাজটি ভারতের বদলে চিনের দিকে ঘুরে যায়।
তবে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এই বিতর্ক উড়িয়ে দেয়। মন্ত্রক জানাওয়াই, তেলের বাজারে মাঝপথে জাহাজের গন্তব্য বদল হওয়া একটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে আর্থিক বা অন্য কোনও সমস্যার সম্পর্ক নেই। ভারতের তেল শোধনাগারগুলি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কিনছে এবং এই ক্ষেত্রে কোনও বাধাই নেই।
অনেকে মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে অশোধিত তেলের বাজারে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মূলত বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কাজ বলে মনে করছেন অনেকেই। ভারত সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ করে নিতে চাইছে বলে অনেকের ধারণা।