২০২৫ সালে মধ্যপ্রদেশে মোট ৫৪টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে—প্রজেক্ট টাইগার শুরুর পর যা সর্বোচ্চ। চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬টি বাঘের। কী হচ্ছে বুঝতে পারছে না প্রশাসনও।

বাঘ ও ছানা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 8 April 2026 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘের রাজ্য বলে পরিচিত মধ্যপ্রদেশ। কিন্তু সেই গর্বের পর্দা সরিয়ে সামনে এল ভয়াবহ ছবি—মৃত বাঘ, বিষপ্রয়োগ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, ছানার অস্বাভাবিক মৃত্যু। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে পুরনো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আর ভরসা রাখতে পারছে না প্রশাসন। তাই সাতপুরা টাইগার রিজার্ভে (Satpura Tiger Reserve) নতুন ‘টাইগার প্রোটেকশন ফোর্স’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা হচ্ছে।
২০২৫ সালে মধ্যপ্রদেশে মোট ৫৪টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে—প্রজেক্ট টাইগার শুরুর পর যা সর্বোচ্চ। চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬টি বাঘের, পরে উমারিয়ায় আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ (Madhya Pradesh tiger deaths)। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই হস্তক্ষেপ করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সাতপুরায়। এক ঘটনায় অবৈধ আফিম চাষ ঢাকতে এক ব্যক্তি নাকি বাঘকে বিষ খাইয়ে পরে বিদ্যুতের তার পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। অন্য ঘটনায় চার মাসের একটি শাবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে, যার গায়ে সংঘর্ষের চিহ্ন ছিল। মাধাই রেঞ্জে পর্যটকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দুই প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের হিংস্র লড়াই—যা এলাকায় বাড়তে থাকা চাপেরই ইঙ্গিত।
এই প্রেক্ষিতেই প্রস্তাবিত হয়েছে টাইগার প্রোটেকশন ফোর্স। ইতিমধ্যে রাজ্যে রয়েছে স্টেট টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স ও পাঁচটি রিজিওনাল স্ট্রাইক ফোর্স। তবে তাদের কাজ মূলত অভিযানে নামা, অপরাধ দমন, তদন্ত ও হানা দেওয়া। অর্থাৎ তারা প্রতিক্রিয়াশীল ইউনিট।
নতুন টাইগার প্রোটেকশন ফোর্স একেবারেই আলাদা। এটি হবে রিজার্ভ-নির্দিষ্ট, স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত একটি ইউনিট, যার লক্ষ্য অপরাধ হওয়ার আগেই নজরদারি জোরদার করা। সহজ কথায়, স্ট্রাইক ফোর্স যেখানে বিপদের পরে নামে, সেখানে প্রোটেকশন ফোর্স আগে থেকেই মাঠে থেকে বিপদ ঠেকাবে।
প্রশিক্ষণও সেইমতো কঠোর। ৩০ দিনের কোর্সে থাকবে প্রশাসনিক সমন্বয়, গোয়েন্দাগিরি, ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ফৌজদারি আইন, প্রমাণ সংগ্রহ, আইটি-র পাশাপাশি পিটি, যোগা, জঙ্গল মুভমেন্ট, অ্যামবুশ, অস্ত্র চালনা ও ক্যাম্প ট্রেনিং।
এডিজি পুলিশ ট্রেনিং রাজা বাবু সিংহ জানিয়েছেন, সাতপুরা কর্তৃপক্ষ পাচমাড়িতে এই প্রশিক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছে। কী ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দরকার, তাও জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অন্য রিজার্ভেও এই মডেল চালু হতে পারে—ইঙ্গিত প্রশাসনের।