পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর ওই পর্যটকের কাছে যান বিমানবন্দরের কর্মী আফান আহমেদ। নিজেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, মহিলার চেক-ইন লাগেজ থেকে নাকি ‘বিপ’ শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণেই ব্যাগেজ পরীক্ষা করা জরুরি।

অভিযুক্ত বিমানবন্দর কর্মী
শেষ আপডেট: 22 January 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Bengaluru Airport) এক কোরিয়ান পর্যটককে যৌন হেনস্থার (Sexual Assualt of Korean Woman Tourist) অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। টিকিট ও লাগেজ পরীক্ষা করার অজুহাতে বিমানবন্দরের এক কর্মী (Airport Worker) ওই পর্যটককে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই অভিযুক্ত কর্মীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ জানুয়ারি। অভিযোগকারিণী কিম সুং কিয়ং নামের ওই পর্যটক ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তাঁর কথায়, এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হলেও, এর জেরে তিনি ভারতের প্রতি কোনও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে চান না। বরং ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর ওই পর্যটকের কাছে যান বিমানবন্দরের কর্মী আফান আহমেদ। নিজেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, মহিলার চেক-ইন লাগেজ থেকে নাকি ‘বিপ’ শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণেই ব্যাগেজ পরীক্ষা করা জরুরি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আহমেদ পর্যটককে বলেন, কাউন্টারে বিস্তারিত পরীক্ষা করলে তাঁর ফ্লাইট মিস হয়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বিকল্প হিসেবে ‘পার্সোনাল চেক’-এর প্রস্তাব দেন। এরপর মহিলাকে বিমানবন্দরের ভিতরে একটি শৌচালয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানেই অভিযুক্ত কর্মী বারবার তাঁর বুকে ও গোপনাঙ্গে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তিনি জোর করে বুক চেপে ধরেন এবং পরে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। পর্যটক যখন এর প্রতিবাদ করেন ও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন অভিযুক্ত ‘ওকে, থ্যাঙ্ক ইউ’ বলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এই ঘটনার পর আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই মহিলা সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত কর্মীকে আটক করা হয় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এফআইআরের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।